E-Paper

তাপস-বিরোধী শিবির অসন্তুষ্ট বনভোজনে

বৃহস্পতিবার রানাঘাট ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে কামগাছি এলাকায় একটি আমবাগানে বনভোজনের ব্যবস্থা করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:৩১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

দলের ব্লক কমিটির ডাকা বনভোজনে গরহাজির রইলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তরের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতা। অনেকের দাবি, তাঁরা আমন্ত্রণই পাননি। পাশাপাশি, দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তাপস ঘোষকে সেই বনভোজন মঞ্চে মাইকে জেলা সভাপতি বলে ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য ভুল স্বীকার করে তা সংশোধন করা হয়। এ নিয়েও দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রানাঘাট ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে কামগাছি এলাকায় একটি আমবাগানে বনভোজনের ব্যবস্থা করা হয়। ওই বনভোজন ঘিরেও তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল চাপা রইল না। দীর্ঘ দিন ধরে রানাঘাট ১ ব্লকে তৃণমূল দু’টি শিবিরে বিভক্ত। দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তাপস ঘোষ বনাম তাপস-বিরোধী শিবিরের কোন্দল সামনে এসেছে নানা সময়ে। ওই দিনের বনভোজনে তাপস ঘনিষ্ঠেরা হাজির থাকলেও গরহাজির রইল তাপস-বিরোধী শিবিরের একাংশ। তাদের দাবি, আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যদিও ব্লক সভাপতি জানাচ্ছেন, ব্লকে দলের সকল নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিকে বনভোজনে আমন্ত্রণ করা হয়।

গত পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে রানাঘাট ১ ব্লকে তৃণমূলের কোন্দল চরমে পৌঁছায়। দলের দীর্ঘ দিনের ব্লক সভাপতি তাপস ঘোষকে পদ থেকে সরানো হয়েছিল আগেই। দীর্ঘ দিনের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি থাকার পরেও তাপসকে সে বার টিকিট দেয়নি দল। টিকিট পাননি তাপস-ঘনিষ্ঠদের অনেকেই। রানাঘাট ১ ব্লকে দুই শিবিরের দূরত্ব কমেনি। বৃহস্পতিবারের বনভোজনেও তা জারি রইল। সঙ্গে আরও এক বিতর্ক তৈরি হয়। বনভোজনে মঞ্চ থেকে তাপস ঘোষকে দলের জেলা সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য ভুল সংশোধন করে নেন ঘোষক। জানান, জেলা সভাপতি নয়, তাপস ঘোষ দলের সাধারণ সম্পাদক। এ নিয়েও দলে অসন্তোষ রয়েছে। রানাঘাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুদীপ ভৌমিক বলেন, ‘‘আমাদের পঞ্চায়েত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের জানানোই হয়নি। আর একটি ভিডিয়ো দেখেছি, যে ভাবে তাপস ঘোষকে জেলা সভাপতি হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক।’’

রানাঘাট ১ ব্লক যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা রামনগর ১ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শ্যামসুন্দর ঘোষ বলেন, ‘‘বনভোজনের কথা কেউ জানায়নি। আর ওখানে যে ভাবে নিজেরাই জেলা সভাপতি হিসেবে এক জনের নাম ঘোষণা করে দিলেন, দলের নেতৃত্বকে কি ওঁরা মানছেন না?’’

রানাঘাট ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি তাপস বিশ্বাস বলছেন, ‘‘সকলকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন দুয়ারে সরকার চলছে। তাই অনেক জনপ্রতিনিধি আসতে পারেননি। আর তাপস ঘোষকে নিয়ে ঘোষণার কথা আমি শুনতে পাইনি। বিষয়টি জানছি।’’

বনভোজনে ঘোষকের দায়িত্বে ছিলেন কালীনারায়ণপুর পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের সদস্য দীপা দাসের স্বামী জানকীকান্ত দাস। জানকীর দাবি, ‘‘মুখ ফসকে কথাটা বেরিয়ে গিয়েছিল। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে ভুল সংশোধন করেছি।’’ আর তাপস ঘোষ বলছেন, ‘‘ভুল করে কথাটা বলে ফেলেছিল। এটা নিয়ে অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে।’’ আর রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘তখন বনভোজন চলছিল। ভুল করে ওঁর মুখ থেকে কথাটা বেরিয়ে গিয়েছিল। এটা বড় দোষ বলে আমরা মনে করছি না।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

tapas ghosh TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy