Advertisement
E-Paper

বৈশাখের বিয়ে পিছোচ্ছে শ্রাবণে

তবে আশার কথা, বিয়ের বড় মরসুম আষাঢ় ও শ্রাবণ। তাই জুনে যদি না-ও হয়, অনেকেরই ইচ্ছে জুলাই বা অগস্টে বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন।

সেবাব্রত মুখোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২০ ০০:৩৯
প্রতীকী চিত্র

প্রতীকী চিত্র

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে মোট ১১টি বিয়ের তারিখ ছিল। কিন্তু করোনার ভয়ে এবং লকডাউনের জন্য অনেকেই দিন স্থির করেও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে এসেছেন। তাঁরা অপেক্ষা করছেন, কখন পুরো লকডাউন উঠে যাবে, তার পরে তাঁরা বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন। তবে নানা সূত্রে যে হিসেব মিলছে, তাতে বেলডাঙা ২ ব্লকে এই ১১টা বিয়ের তারিখে মোট ৫৭টা বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। হয়েছে চারটে।

এই চারটি বিয়ের কোনওটি হয়েছে মন্দিরে। কোথাও মোটরবাইকে করে বরযাত্রী এসেছেন গুটি কতক। কোথাও সব মিলিয়ে জড়ো হয়েছেন ৩০ জন। এলাকার প্রতিষ্ঠিত এক ব্যক্তি, যিনি ছেলের বিয়েতে অন্তত ৪০০ মানুষকে নিমন্ত্রণ করার কথা ভেবেছিলেন, তাঁকে ২৫ জনের পেট ভরিয়ে থামতে হচ্ছে।

তবে আশার কথা, বিয়ের বড় মরসুম আষাঢ় ও শ্রাবণ। তাই জুনে যদি না-ও হয়, অনেকেরই ইচ্ছে জুলাই বা অগস্টে বিয়ের অনুষ্ঠান করবেন।

শক্তিপুরের কাদখালির সুজাপুরের বাসিন্দা আকাশ দাসের বিয়ে ঠিক হয় জ্যৈষ্ঠে। বাড়িতে প্যান্ডেল হবে। গ্রামের সব মানুষকে ডাকার ইচ্ছে রয়েছে তাঁদের। কিন্তু এখন তা সম্ভব নয়। তাই বিয়ে পিছিয়ে গিয়েছে। শ্রাবণে দিন দেখছেন তাঁরা। বেলডাঙা মাড্ডা পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা মধুছন্দা মণ্ডলের বিয়ে ঠিক হয়েছিল বহরমপুরের গোয়ালযানে। তারিখ ছিল ১৭ জ্যৈষ্ঠ। আপাতত স্থগিত সেই অনুষ্ঠান। তাঁরাও অপেক্ষায় শ্রাবণের।

বেলডাঙা পুরসভার রবীন্দ্র মূর্তির লাগোয়া প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন কারবারি পরিবারের সদস্য দেবব্রত সাহার গত ১৪ জুন বিয়ে হয়েছে লালগোলায়। বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মন্দিরে বিয়ে দিয়ে সামান্য কয়েক জনকে খাইয়ে বিয়ে সারতে হয়েছে।

এখন আনলকডাউন প্রক্রিয়া চলছে। আষাঢ় ও শ্রাবণ মিলে মোট ১১ টা বিয়ের দিন রয়েছে। বেলডাঙার বৈশাখী মণ্ডলের বিয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসে ঠিক হয়েও বন্ধ করা হয়। তাঁর বাবা পরিমল মণ্ডল সম্পন্ন গৃহস্থ। তিনি মেয়ের বিয়ের দিন ২৫ শ্রাবন স্থির করেছেন। তাঁর কথায়, “মাঝে প্রায় ২ মাস সময়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করি। আমার মেয়ের প্রচুর বন্ধু। আমারও অনেক পরিচিতি। তাঁদের না নিয়ে কী করে বিয়ে হবে! তা বোঝাতে পাত্রপক্ষও নতুন তারিখ মেনে নিল।”

ব্যবসায়ী নিরঞ্জন মিত্র ছেলের বিয়ে স্থির করেন বৈশাখে। তিনি দিন বদলে ১১ শ্রাবণ, ২৭ জুলাই করেছেন। নিরঞ্জনবাবুর ছেলে সুব্রত বলেন, “এখন আগের থেকে বেশি মানুষকে নিয়ে বিয়ে শুরু হয়েছে। আগে মোটরবাইকে বিয়ে করতে যাচ্ছিল। এখন চার চাকা ভর্তি করে যাচ্ছে। তবে মুখে মাস্ক ও স্যানিটাইজ়ার নিয়ে। ফলে ১১ শ্রাবণ অনেক দেরি। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। অনেককে নিমন্ত্রণ করা যাবে, আশা রাখছি।”

coronavirus lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy