পরপর কয়েক দিন ধরে জেলায় রোজ বেশ কয়েক জনের করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছিল। তবে বৃহস্পতিবার রাতে কেবল একজনেরই করোনাভাইরাস পরীক্ষায় পজ়িটিভ হওয়ার খবর মিলেছে। লালগোলার বালুটুঙ্গি গ্রামের দিল্লি ফেরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের করোনা পজ়িটিভ হয়েছে। শুক্রবার বছর ছাব্বিশের ওই যুবককে বহরমপুরে মাতৃসদন করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫৪ জন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার বহরমপুর মাতৃসদন করোনা হাসপাতাল থেকে তিন জন করোনা মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই নিয়ে জেলায় করোনা থেকে সুস্থ হলেন ১১২ জন। তবে ভিন্ রাজ্য ফেরত প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ জনের এখনও কোয়রান্টিন কেন্দ্র বা হোম কোয়রান্টিনে থাকার ১৪ দিনের মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। ফলে উদ্বেগে রয়েছে স্বাস্থ্য দফতরও। মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘‘করোনা আক্রান্তকে মাতৃসদনে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, ‘‘রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও বাড়ছে।’’
দেশ জুড়ে করোনার প্রভাব বাড়তে থাকলেও ১০ মে-র আগে পর্যন্ত মুর্শিদাবাদে তার প্রভাব ছিল খুব কম। সূত্রের খবর ১০ মে পর্যন্ত জেলায় একজন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ১১ মে তা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ জনে। এর পরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মাত্র এক মাসে ১ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১৫১তে। মুর্শিদাবাদের করোনা আক্রান্তদের সিংহভাগ ভিন রাজ্য ফেরত। তবে কলকাতা ফেরত কিছু লোকজন রয়েছে। এ ছাড়া ভিন্ রাজ্য ফেরত করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসে পরিবারের সদস্য আক্রান্ত হয়েছে এমনও জনা পনেরো রয়েছে। ফলে দিন যত যাচ্ছে, উদ্বেগ তত বেড়েছে।