দাদুর পর এ বার কাঠগড়ায় ঠাকুমা। কৃষ্ণনগরে মানিকপাড়ার ছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের মামলার নেপথ্যে কি রয়েছে পুলিশের কোনও বড় ভূমিকা? মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর আদালতে নিহতের ঠাকুমা আশালতা মল্লিককে দেশরাজ সিংহের আইনজীবীর করা একের পর এক প্রশ্ন ঘিরে এই জল্পনা নতুন করে মাথাচারা দিল আদালতে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের ‘অস্বাভাবিক’ প্রতিক্রিয়া এবং বয়ানে অসঙ্গতিকে হাতিয়ার করে এ দিন পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়াকেই কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন আইনজীবী শামসুল ইসলাম মোল্লা।
মঙ্গলবার আদালত কক্ষে শুনানির শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন শামসুল। তিনি নিহত ছাত্রীর ঠাকুমার কাছে জানতে চান, খুনের ঘটনার পর তাঁর ঠিক কী প্রতিক্রিয়া ছিল? উত্তরে আশালতা দেবী জানান, নাতি করণের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঈশিতার ঘরে গিয়েছিলেন। এর পর নীচে নেমে সামনের দোকানদারকে খবর দেন এবং লোকজন আসার পর নিজের ঘরে ঢুকে যান। অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্ন ছিল, “আপনি কি দরজা ভাঙার কোনও শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন?” উত্তরে সরাসরি ‘না’ বলেন আশালতা। এই উত্তরকেই তুরুপের তাস করে আইনজীবী দাবি করেন, ঈশিতার দাদুর মতো ঠাকুমার আচরণও অত্যন্ত ‘অস্বাভাবিক’। নাতনি খুন হওয়ার পর যে শোক বা প্রতিক্রিয়া দেখার কথা ছিল, তা নথিতে অমিল।
আরও পড়ুন:
সওয়াল চলাকালীন আইনজীবী শামসুল সরাসরি অভিযোগ তোলেন, আশালতা আদতে কিছুই দেখেননি বা শোনেননি। তাঁর কথায়, “গোটা ব্যাপারটা পুলিশের সাজানো একটি চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট। পুলিশ যা শিখিয়ে দিয়েছে, আশালতা আদালতে সেটুকুই বলছেন।” যদিও এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন নিহতের ঠাকুমা।
উল্লেখ্য, সোমবার নিহত ঈশিতার দাদু জয়দেব মল্লিককে জেরার সময়ও একই ধরনের ‘অস্বাভাবিক’ আচরণের প্রসঙ্গ তুলেছিল অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী। পরিবারের এই নিস্পৃহতা কি কোনও গভীর রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি এর পিছনে তদন্তকারীদের কোনও হাত রয়েছে, তা নিয়ে জেলা আদালত চত্বরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কৃষ্ণনগরের এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই এলাকা উত্তপ্ত ছিল। ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর পেছনে ত্রিকোণ প্রেম না কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে ধন্দ কাটেনি। এ দিনের শুনানিতে ঠাকুমার বয়ান সেই ধন্দ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত জানিয়েছে, বুধবার মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। সে দিন নিহতের বাবা দুলাল মল্লিককে কাঠগড়ায় তুলে জেরা করবেন অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী।