গলা টিপে মেয়েকে খুন করল মা।
শুক্রবার রাতে ডোমকলের ভগীরথপুর গ্রামে ওই ঘটনার পরে এ দিন পুলিশের জেরায় সে কথা কবুলও করেছেন ওই মহিলা। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
প্রিয়া-অমরের বিয়ে হয়েছিল বছর বারো আগে। তাদের বছর এগারোর মেয়ে অঙ্কিতা ঘোষ স্থানীয় স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পরে জানায়, স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই অমর ঘোষ রাতে বাড়ি না ফিরে শুতে যেতেন পাশের মিষ্টির দোকানে। শনিবার সকালে সেখানে এসেই প্রিয়া জানান, মেয়ে অসুস্থ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে বোঝা যায় তাকে শ্বাসরোধ করা খুন করা হয়েছে। কিন্তু কেন?
পুলিশের দাবি, ‘অন্য সম্পর্কের’ জেরেই স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা ছিল না। অমরকেও পাল্টা সন্দেহ করতে প্রিয়া। অনুমান, ওই ‘সম্পর্কের’ কোনও প্রমাণ লোপাট করতেই মেয়েকে খুন করেছে মা। আবার, নিছক রাগের বশেও মেয়েকে খুন করতে পারে বলেও মনে করছে কেউ কেউ।
শোকে ভেঙে পড়েছেন আত্মীয়েরা।— নিজস্ব চিত্র
তবে, ওই ঘটনায় আরও কয়েক জনকে সন্দেহেপ বাইরে রাখছে না পুলিশ। তাদের নাম অবশ্য তদন্তের স্বার্থে জানাতে চায়নি পুলিশ।
নওদার জামালপুরের প্রিয়ার সঙ্গে ডোমকলের ভগীরথপুরের অমর ঘোষের বিয়ে হয়েছিল বারো বছর আগে। অমরের দাদা সমরের দাবি, ‘‘বিয়ের পর সব ঠিকঠাক চললেও বছর তিনেক আগে ওদের সম্পর্কে চিড় ধরে। এমনকী পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে অমর যোগাযোগ করলেও অশান্তি বাধত।’’
প্রিয়ার বাবা অসীম ঘোষ অবশ্য জানান, তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন অপবাদ দেওয়া হলেও তা নিতান্তই ‘ভিত্তিহীন’। তিনি বলেন, ‘‘এ বাড়িতে কেউই ওর পাশে ছিল না। এক মাত্র মেয়েটাই ওর খুব আদরের ছিল। কেন এমন করল বুঝতে পারছি না।’’