কলেজের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক তাদের হাতে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এমন দাবি মানেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তারই প্রতিবাদে দিনভর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কলেজে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাল শাসক দলের ওই ছাত্র সংগঠন। মঙ্গলবার বহরমপুর কলেজের ঘটনা। এই বিক্ষোভ-ঘেরাওয়ের ফলে এ দিন কলেজের পঠনপাঠন শিকেয় ওঠে। প্রথমে দু’একটি ক্লাস হলেও পরে ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে বাড়ি চলে যান পড়ুয়ারা।
গত তিন বছর ধরে বহরমপুর কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। ভেস্তে গিয়েছে কলেজের সোশ্যাল অনুষ্ঠান, নবীণবরণ ও বসন্ত উৎসবের আয়োজনও। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছাড়া ওই অনুষ্ঠানের অর্থ খরচ করার অধিকার কারও নেই। কিন্তু সে কথা শুনতে নারাজ টিএমসিপি-র সদস্যেরা। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা দাবি জানায়, বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গত দু’বছর ধরে বন্ধ থাকা সোশ্যাল ও নবীণবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় টিএমসিপি-র সদস্যেরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘেরাও করে রাখেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বহরমপুর কলেজ শাখা সংগঠনের সভাপতি শেখ সানসাইনের দাবি, গত দু’বছর ধরে সোশ্যাল অনুষ্ঠান, নবীণবরণ, বসন্ত উৎসব হয়নি কলেজে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবি, এ বছর কলেজে ওই সমস্ত অনুষ্ঠান করতে হবে। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের আবেগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁরা নিজেরাও অনুষ্ঠান করবে না, আমাদের হাতেও অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তুলে দিচ্ছেন না। তাই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের দাবি পূরণের জন্য বাধ্য হয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘেরাও করে রেখেছেন।
তবে এই ঘেরাওয়ের সময় টিএমসিপি বহিরগতদের নিয়ে এসেছিল বলেও অভিযোগ তুলেছে এসএফআই। সংগঠনের জেলা নেতা সন্দীপন দাসের অভিযোগ, ‘‘এ দিন কলেজে যাঁদের ঘেরাও করতে দেখা গিয়েছে তাঁদের অধিকাংশই বহিরগত। টিএমসিপি বহিরগতদের ছাড়া যে কিছুই করতে পারে না তা আরও একবার প্রমাণিত হল।’’ অভিযোগ উড়িয়ে শেখ সানসাইন বলছেন, ‘‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য-সমর্থক মানেই যে তাঁরা কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রী নয়, তা কিন্তু নয়। সকলেই এই কলেজের পড়ুয়া। বাইরে থেকে কেউ আসেনি।’’
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় দিনের ছুটির পরে গত ২ জানুয়ারি কলেজ খুলেছে। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে কলেজের অধ্যক্ষ সমরেশ মণ্ডল কলেজে আসেননি। তিনি এখনও ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কলেজের চার শিক্ষক। কিন্তু এ দিনের ঘটনার পরে তাঁরা কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘বসন্ত উৎসবের নামে টিএমসিপি এখন সোশ্যাল ও নবীণবরণ অনুষ্ঠানও করতে চাইছে। ওই অনুষ্ঠান করতে যে খরচ হবে, তাও তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ওরা। কিন্তু কলেজের নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছাড়া ওই অর্থ কলেজ থেকে তোলার নিয়ম নেই। ফলে অর্থ তুলতে না পারলে খরচ করবে কী ভাবে? সেটা বুঝিয়ে বলার পরেও তারা কোনও কথা শুনতে চাইছে না।’’