রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল তৃণমূল। নদিয়ার ওই কেন্দ্রে আগে চিকিৎসক সৌগত বর্মন দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।
শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় ঘোষণা করেন, দুর্ঘটনায় পড়ায় সৌগতবাবু গুরুতর জখম হয়েছেন। তাই তাঁর জায়গায় মোহনপুর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তাপস মণ্ডলকে প্রার্থী করা হচ্ছে। তবে তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, এলাকায় প্রায় অপরিচিত সৌগতবাবুকে প্রার্থী করায় দলের অন্দরে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। প্রার্থী বদল করে তা এড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে।
তৃণমূলের আর একটি সূত্র অবশ্য মনে করছে, এই ঘোষণার পরে প্রার্থী বদলের চাপ আরও বাড়বে। নীচের তলার কর্মীদের দাবিতে আরও কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল হতে পারে কি না, তা নিয়েও কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
সরকারি চিকিৎসক সৌগতবাবু থাকেন কৃষ্ণনগরে। রানাঘাটে কোনও দিন তেমন যাতায়াত নেই। তিনি দেব বা মুনমুনের মতো ‘সেলিব্রিটি’ও নন। সে ক্ষেত্রে তিনি কেন প্রার্থী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবেন, রানাঘাটের বেশ কয়েক জন নেতা এবং বিধায়ক সেই প্রশ্ন তুলছিলেন। তাঁর সমর্থনে দলীয় কর্মীদের প্রচারে নামানো সমস্যা হবে, এমনটা আঁচ করতে শুরু করেছিলেন দলের শীর্ষ নেতারাও।
এরই মধ্যে গত শনিবার মোটরবাইক দুর্ঘটনায় শিরদাঁড়ায় চোট পান সৌগতবাবু। কৃষ্ণনগরে একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসার পরে আপাতত তাঁকে নিয়মিত ট্র্যাকশন নিতে হচ্ছে। মুকুলবাবু বলেন, “চিকিৎসকেরা বলেছেন, আট সপ্তাহ উনি কোনও ভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না। সেই কারণেই আমাদের প্রার্থী বদল করতে হয়েছে। তাপস মণ্ডলও অত্যন্ত যোগ্য প্রার্থী।” নদিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তও একই কথা জানিয়েছেন।
বছর চল্লিশের তাপস মণ্ডলও রানাঘাটের মানুষ নন। কল্যাণীর ‘বি’ ব্লকের বাসিন্দা। আদতে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের লোক হলেও, ছাত্র হিসেবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় ১৮ বছর কল্যাণীতে রয়েছেন। সেই সুবাদে এলাকায় তাঁর পরিচিতি আছে। মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তাপসবাবু বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলে আচার্যের প্রতিনিধি। তৃণমূল প্রভাবিত বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সমিতির কার্যকরী সদস্যও। এই প্রথম তিনি ভোটে লড়ছেন। রানাঘাটের প্রস্তাবিত প্রার্থিতালিকায় তাঁর নামও গোড়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এসেছিল। প্রথম দফায় তা বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই টিকিট পেলেন।