E-Paper

কমন রুমের ভিতরের ঝগড়া উচ্চ শিক্ষা নয়, বললেন স্বপন

নানা ধরনের মতবিরোধে অধ্যক্ষ, অধ্যাপকদের মধ্যে সংঘাতে যে নতুন রাজ্য সরকার খুশি নয়, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় তার আভাস মিলেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৭:৫০
স্বপন দাসগুপ্ত।

স্বপন দাসগুপ্ত। ফাইল চিত্র।

পুরনো রাজ্য কমিটিকে অস্বীকার করে ঠিক ১৩ মাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আশীর্বাদ’ মাথায় নিয়ে নতুন কমিটি গড়ে নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ। অধ্যক্ষদের সেই সংগঠনই রবিবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের উপস্থিতিতে ফের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

এ বারও পরিষদের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাইরের একটি ছোট অংশ অন্য পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারাও আলাদা সভা করেছে শনিবার। তবে রবিবারের সভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে অধ্যক্ষদের সঙ্কীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে বলেন। থাকার কথা থাকলেও ছিলেন না উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে গিয়েছেন বলে খবর।

নানা ধরনের মতবিরোধে অধ্যক্ষ, অধ্যাপকদের মধ্যে সংঘাতে যে নতুন রাজ্য সরকার খুশি নয়, সম্প্রতি কিছু ঘটনায় তার আভাস মিলেছে। স্বপন বলেন, ‘‘উচ্চ শিক্ষা বলতে যেন কমন রুমের ভিতরের ঝগড়া হয়ে উঠেছে... তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছে (দে আর ফাইটিং ফর দ‍্য স্মলেস্ট অব স্টেকস)।’’ অধ্যক্ষদের পেশাগত গরিমা মনে করিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে রাজ্যের পিছিয়ে পড়া মেনে নিয়ে এগনোর পথ খুঁজতে হবে। তবে পরিষদের নতুন সভাপতি তথা যোগেশচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজ রায় অধ্যক্ষদের বলেন, ‘‘আপনাদের গেরুয়া জামা পরার দরকার নেই, সাদা জামা পরতে হবে।’’ নতুন রাজ্য সরকার শিক্ষাঙ্গনে নানা মতের অবাধে চর্চা চলুক বলে বার্তা দিতে চাইছে, তা তুলে ধরেই পঙ্কজ বলেন, ‘‘ব্যক্তিগত দুর্নীতি না থাকলে পেশাগত ভাবে কারও সমস্যা হবে না।’’

পরিষদের গত বছরের সম্মেলনে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সভাপতি স্বাগতা দাস মোহান্ত এবং সাধারণ সম্পাদক মানস কবি। তাঁদের পদত্যােগর পরেই বার্ষিক সভা ডাকা হয়েছে। তবে শীর্ষ পদে না থাকলেই মানসও পরিষদের এই অংশের সঙ্গেই রয়েছেন। পঙ্কজ সভাপতি এবং বেহালার রবীন মুখার্জি কলেজের অধ্যক্ষ শ্রীকুমার রায় সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এ ছাড়া, অন্য পদাধিকারীরা মোটামুটি একই।

অধ্যক্ষদের অন্য গোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতিশীল এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে ভাল তৃণমূলের মতো অনেকেই রাতারাতি ভাল অধ্যক্ষ হয়ে গিয়েছেন। তৃণমূল আমলে তাঁদের কারও কারও নামে হুমকি-সংস্কৃতি চালানোর অভিযোগ ছিল। আবার অনেক অধ্যক্ষ ভয়ে-ভয়ে সভায় গিয়েছেন।’’ পঙ্কজের কথায়, ‘‘২৬৭ জনেরও বেশি অধ্যক্ষ এই সভায় এসেছিলেন। মুষ্টিমেয় কয়েক জন বাইরে রয়েছেন। তাঁদের বিষয়টিধরছি না।’’ পড়ুয়াদের ভিন্ রাজ্যমুখী হওয়া থেকে শিক্ষকদের মধ্যে স্থায়ী, অস্থায়ী নানা পদের ছড়াছড়ি সমস্যার বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। অধ্যক্ষদের কাছে পঠনপাঠন সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চান তিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও বলেন, ‘‘কলেজগুলির ক্লাস কেন আকর্ষণ হারাচ্ছে, তা বুঝেই অধ্যক্ষদের দায়িত্ব নিতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy