Advertisement
E-Paper

তামাকের বদলে আলু, আখ চাষে উৎসাহ

নেশাদ্রব্যের প্রকোপ ঠেকাতে তামাকের পরিবর্তে আলু ও গম চাষে উৎসাহ দিতে শুরু করেছে কৃষি দফতর। ইতিমধ্যে কোচবিহারের সিতাই সহ একাধিক জায়গায় চাষিদের মধ্যে আলু ও গমের বীজ বিনা মূল্যে বিলি করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০১:২১

নেশাদ্রব্যের প্রকোপ ঠেকাতে তামাকের পরিবর্তে আলু ও গম চাষে উৎসাহ দিতে শুরু করেছে কৃষি দফতর। ইতিমধ্যে কোচবিহারের সিতাই সহ একাধিক জায়গায় চাষিদের মধ্যে আলু ও গমের বীজ বিনা মূল্যে বিলি করা হয়েছে। চাষিদের আখ চাষের দিকেও নিয়ে যেতে চাইছে কৃষি দফতর। দফতর সূত্রের খবর, রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনায় ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে।

কিন্তু কোচবিহারে তামাক অর্থকরী ফসল। লক্ষাধিক মানুষ ওই চাষের উপরে নির্ভরশীল। সেখানে ওই প্রকল্প কোচবিহারে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সিতাইয়ের সহ কৃষি অধিকর্তা সমিতকুমার দে বলেন, “নেশাদ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে প্রচার চলছে। এই অবস্থায় সরকারি প্রকল্পে তামাকের পরিবর্তে লাভ জনক চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তাতে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।”

কৃষি দফতর সূত্রের খবর, কোচবিহার জেলায় প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়। এর বেশিরভাগ অংশ দিনহাটা, সিতাই, শীতলখুচি, মাথাভাঙা ও মেখলিগঞ্জ এলাকায় এলাকায়। ওই এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই তামাক চাষের উপরে নির্ভরশীল। তা থেকে যা আয়, তা দিয়ে সারা বছর সংসার চলে তাঁদের। তামাকের পরিবর্তে কোনও চাষ করতে গেলে লাভের পরিমাণ দেখতে হবে। সেদিকে ভেবেই আলু ও গমের কথা ভাবা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় সব্জি চাষের কথাও ভাবা হয়েছে।

কৃষি আধিকারিকরা জানান, আখের সঙ্গে আলু চাষ আরও লাভজনক। যা করলে অনেকেই আর তামাক চাষে যাবেন না। আগামী বছর থেকে সিতাই ও দিনহাটার মতো যে সব এলাকায় তামাক চাষ বেশি হয়, সে সব এলাকায় ওই চাষে উৎসাহ দেওয়া হবে। এবারে সিতাইয়ে পঞ্চাশ জন চাষিকে দশ টন আলুর বীজ দেওয়া হয়েছে। দু’শো জনের বেশি কৃষকের হাতে ১২ টন গমের বীজ তুলে দেওয়া হয়েছে। তাতে কৃষকদের মধ্যে ভাল সাড়া পাওয়া গিয়েছে। কোচবিহার এক নম্বর ব্লক কৃষি আধিকারিক রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ওই কাজ শুরু হয়েছে। চাষিদের মধ্যে তা নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।”

তামাক চাষিদের অনেকেই জানান, এক বিঘা জমিতে তামাক চাষ করে প্রায় বারো হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। সেখানে আলুতে সব সময় ঝুঁকি থেকে যায়। কখনও হয়তো একটু বেশি লাভ হয়, কখনও কম। সিতাইয়ের চাষি চন্দ্রকুমার দাস বলেন, “তামাক অর্থকরী ফসল। তাই হঠাৎ করে অন্য চাষে কঠিন। লাভ জনক হলে তা ভেবে দেখা যেতে পারে।” আরেক চাষি অবশ্য জানান, তামাক একবারে বাদ না দিয়ে কিছু জমিতে অন্য চাষেও নেমেছেন তাঁরা।

Agricultural department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy