Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

ভয় ছড়িয়ে ঘুরছে লাঠি

পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমার প্রথম দিনেই উত্তপ্ত উত্তর

নমিতেশ ঘোষ
কোচবিহার ০৩ এপ্রিল ২০১৮ ০৩:০২
পঞ্চায়েত ভোটের হাওয়া লেগেছে। কোচবিহারে মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে। নিজস্ব চিত্র

পঞ্চায়েত ভোটের হাওয়া লেগেছে। কোচবিহারে মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে। নিজস্ব চিত্র

ঘুরে বেড়াচ্ছে ‘লেঠেল বাহিনী’। কোথাও বাইক নিয়ে। কোথাও আবার খালি হাতে। কাউকে ‘দোকান বন্ধ করা’র নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। কাউকে ‘এক মাস বাড়ির বাইরে থাকা’র। সেই সঙ্গে, কেউ প্রার্থী হলে ‘ফল ভাল হবে না’ সে কথাও ঠারেঠোরে জানিয়ে দিচ্ছে তারা।

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাতের অন্ধকারে মাইকিং করে বিজেপির হয়ে যাতে কেউ না দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে। রবিবার রাতে দিনাহাটা জুড়ে মাইকিং করে এমন প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

সিপিএমের অভিযোগ, ‘‘বিডিও অফিসের সামনে লাঠিয়াল বাহিনী দাঁড় করিয়ে রেখেছে রাজ্যের শাসক দল। কাউকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।’’ তৃণমূল অবশ্য পুরো ঘটনা অপপ্রচার ছাড়া অন্য কিছু বলে মানতে নারাজ। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “বিজেপি প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। তাই মিথ্যে কথা বলে পালিয়ে যাওয়ার ফাঁক খুঁজছে। কোথাও কোনও বাহিনী নেই।”

Advertisement

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা হওয়া শুরু হতেই কোচবিহারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। অভিযোগ, কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের দেওয়ানহাট, পানিশালা, ঘুঘুমারি, সুটকাবাড়ি, চিলকিরহাট থেকে শুরু করে দিনহাটার বুড়িরহাট, নাজিরহাট সহ সিতাইয়ের মাতালহাট, ভেটাগুড়ি সহ একাধিক এলাকায় লাঠিয়াল বাহিনী ঘুরতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি নিখিলরঞ্জন দে অভিযোগ করেন, ‘‘মাতালহাটের লক্ষ্মীরবাজারে আমাদের এক কর্মীর নৃপেন বর্মনের হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার রাতে লাঠিয়াল বাহিনী বুড়িরহাটের ছোট শাকদল, চিৎপুর এলাকাত বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেয়। মুক্তা রায়, মনভোলা, তপন বর্মনদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়েছে।’’ তিনি বলেন, “ওই কর্মীদের দলের প্রার্থী হওয়ার কথা। তা জানতে পেরেই লাঠিয়াল বাহিনী হামলা চালায়। তাঁদের এক মাসের জন্য এলাকা ছাড়ার ফতোয়া দেওয়া হয়েছে।”

দিনহাটার বাসিন্দা বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন, সাবেক ছিটমহল এলাকাগুলিতেও একই ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাবেক ছিটমহলের বিজেপির এক কর্মী বলেন, “সন্ধের পরে এক আতঙ্কের পরিবেশ। তৃণমূলের লোকজন লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ায়। আর কে কে বিজেপি করে বেছে বেছে তাদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া শুরু করে। কাউকে জানিয়ে কোনও লাভ হয় না।” সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, “পরিস্থিতি খুব খারাপ। কোথাও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”

কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহা বলেন, “অভিযোগ পেলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।” পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডেও বলেন, ‘‘কোনও অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান। ব্যবস্থা হবে।’’

আরও পড়ুন

Advertisement