প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশ থেকে স্পেশ্যাল ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক। শিলিগুড়িতে সেই ট্রেন পৌঁছোনোর পরে চরম উত্তেজনা। রবিবার ট্রেন থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ালেন বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শোরগোল শিলিগুড়িতে। শুরু রাজনৈতিক তরজা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথম ঘটনাটি ঘটে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ। তার পর দুপুর আড়াইটে। দু’বারই কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি যাওয়া স্পেশ্যাল ট্রেনে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সকালে আলিপুরদুয়ার যাওয়ার সময় সিগন্যাল না পেয়ে শিলিগুড়ির ৭নম্বর ওয়ার্ডে যাদবপল্লি এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেনটি। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দাবি, তাঁরা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিচ্ছিলেন। সেই সময় কামরার দিকে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। তাঁরা বাধা দিলে মারধর করেন কয়েক জন। পাল্টা তাঁদের বিরুদ্ধে মহিলাদের দেখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, তখনই এলাকার একাংশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান ট্রেনে থাকা ওই বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। তার পর বাসিন্দাদের সঙ্গে হাতাহাতি করেন তাঁরা। কিন্তু বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, বিনা প্ররোচনায় তাঁদের লক্ষ্য করে কয়েক জন ইট-পাথর ছুড়ছিলেন। নেপথ্যে তৃণমূলের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন শিলিগুড়ির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পিন্টু। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের দুষে তিনি বলেন, ‘‘ট্রেন থেকে নোংরা অঙ্গভঙ্গি করা হয়েছিল। এমন ব্যবহার মোটেই সমীচীন নয়।’’ এর মধ্যে ট্রেনে পাথর ছোড়ার বেশ কিছু ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মণ (ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ওই বিধায়কের দাবি, ‘‘তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। ভোটের আগে তাই এই দুষ্কৃতীদের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে শাসকদলকে। যে ভাবে ট্রেনে হামলা চালানো হয়েছে, তা লজ্জাজনক।’’ তাঁর অভিযোগকে নসাৎ করে দেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব৷ তিনি বলেন, ‘‘এগুলো বিজেপির নাটক। নিজেরাই এ সব করছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে নাটক করল... আমাদের কর্মীদের খেয়েদেয়ে কাজ নেই, তাঁরা অপেক্ষা করছেন কখন স্পেশ্যাল ট্রেন আসবে, আর ইট ছুড়বেন? আমাদের কর্মীরা এই কাজ করেনি। আর এই শহরে এ সব হতেও দেব না।’’