E-Paper

জিএনএলএফের বিক্ষোভে রোহিণীর পথেও বন্ধ টোল প্লাজ়া

পাহাড়ের নেতারা মনে করছেন, বিমল গুরুংয়ের অনুগামী দার্জিলিং আসনে জয়ী হওয়ায় মোর্চা নতুন করে ‘অক্সিজেন’ পেয়েছে।

শুভঙ্কর পাল

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১০:১৪
জিএনএলএফের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে গেল রোহিনী টোল প্লাজ়া। বৃহস্পতিবার।

জিএনএলএফের বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে গেল রোহিনী টোল প্লাজ়া। বৃহস্পতিবার। নিজস্ব চিত্র ।

দার্জিলিং পাহাড়ে ওঠার মুখে রোহিণীতেও বন্ধ করে দেওয়া হল টোল প্লাজ়া। বৃহস্পতিবার রোহিণী টোল প্লাজ়ায় জিএনএলএফ-এর কর্মী-সমর্থকেরা টোল নেওয়া বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান। জিএনএলএফের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা জিটিএ-র তরফে সেখানে টোল আদায় করা হচ্ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে সেই টোল আদায় বন্ধ করার দাবিতে সরব হয় জিএনএলএফ। এ দিন আন্দোলনে নামেন বিজেপিকে সমর্থনকারী ওই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

ঘটনার জেরে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন টোল প্লাজ়ার কর্মীরা। টোল প্লাজ়ার ইন-চার্জ সুজয় প্রধান বলেন, ‘‘টোলের আয়ে কয়েক জন কর্মীর সংসার চলে। হঠাৎ করে টোল বন্ধ হলে সমস্যা বাড়বে।’’ জিটিএ-র তরফে রাত পর্যন্ত এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

পাহাড়ের নেতারা মনে করছেন, বিমল গুরুংয়ের অনুগামী দার্জিলিং আসনে জয়ী হওয়ায় মোর্চা নতুন করে ‘অক্সিজেন’ পেয়েছে। অনীত থাপার প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা আপাতত ‘ব্যাকফুটে’ রয়েছে। এই অবস্থায় বিজেপির সঙ্গী হওয়ার সুবাদে জিএনএলএফ-ও নিজের পায়ের তলায় হারানো মাটি নতুন করে তৈরির চেষ্টা শুরু করবে।

এ দিন সকালে কার্শিয়াংয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে জিএনএলএফের একটি দল রোহিণী টোল প্লাজ়ায় পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, টোল সংগ্রহকারী কর্মীরা টোল আদায় বন্ধ করে প্লাজ়া ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই কার্যত বিনা টোলে রোহিণী হয়ে পাহাড়ে যাতায়াত শুরু হয় বিভিন্ন গাড়ি, ট্রাকের।

জিএনএলএফের কার্শিয়াংয়ের সভাপতি নিমা লামা বলেন, “সুভাষ ঘিসিং এই রাস্তা তৈরি করেছিলেন সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য। আর মানুষের জন্য়ই টোল বন্ধ করলাম।’’ তিনি জানান, জিটিএ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখানে পর্যটকের গাড়ি, ট্রাক, যাত্রিবাহী সব গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ বহুদিন ধরেই এই টোল নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন।

রোহিণী রোড দিয়ে যাতায়াতকারী ট্রাকের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে টোল নেওয়া হত। পাশাপাশি ছোট গাড়ি, যাত্রিবাহী গাড়ি এমনকি বাইক থেকেও ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা অবধি আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই টোল আদায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ছিল বলে দাবি জিএনএলএফ নেতৃত্বের। অন্য দিকে, এ দিন টোল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বহু গাড়িচালক এবং সাধারণ মানুষ খুশি প্রকাশ করেন। বাস, ট্রাক এবং অন্য গাড়িচালকদের অনেকেই জিএনএলএফ কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হত। টোল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Darjeeling

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy