চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল ময়নাগুড়ির একটি গ্রামে। অপরাধ আড়াল করতে হুমকি দিয়ে শিশুর বাবা মায়ের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনার ১৪ দিন পরে, বৃহস্পতিবার সকালে শিশু কন্যাকে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়ে এমনটাই দাবি করেন শিশুটির পরিবারের লোকজন। তবে পাল্টা অভিযোগও রয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, এক লক্ষ টাকা দাবি করে ওই পরিবার। সেটা দিতে অস্বীকার করায় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।
শিশুর দিনমজুর বাবা-মায়ের বয়ান অনুযায়ী মহালয়ার রাতে প্রতিদিনের মতো প্রতিবেশী এক প্রৌঢ়ের বাড়িতে টিভি দেখতে যায় শিশুটি। অভিযুক্তকে সে দাদু বলে ডাকে। কিছুক্ষণ বাদে সিরিয়াল দেখতে ওই বাড়িতে হাজির হন শিশুটির মাও। তাঁর অভিযোগ অনেক ডাকাডাকি করেও প্রথমে সাড়া মেলেনি কারও। পরে বাড়ির একটি ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে দেখতে পান তিনি। এরপর মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। শিশুটির বাবা বাড়ি ফিরে আসার পর মেয়েকে জিজ্ঞেস করে তাঁরা জানতে পারেন ফাঁকা বাড়িতে একা পেয়ে ওই প্রৌঢ় যৌন নির্যাতন চালায়।
শিশুর বাবা বলেন, “কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গেলে তিনি আইনের দ্বারস্থ হতে বলেন। এদিকে অভিযুক্তের লোকজন হুমকি দিতে শুরু করে। ভয় পেয়ে যাই। গত ২৭ অক্টোবর ফের মেয়েকে একা পেয়ে ওই ব্যক্তি বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে জঙ্গলে যাওয়ার টোপ দেয়। এর পরে আর চুপ থাকতে পারিনি।” যদিও তিনি থানার দিকে পা বাড়াতে পারেনি বলে অভিযোগ।
শিশুর মা জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী একজনকে নিয়ে থানার দিকে যাচ্ছিলেন। ফোনে ওই প্রতিবেশীকে হুমকি দেওয়া হলে মাঝ রাস্তা থেকে বাড়িতে ফিরে যান। বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়িতে জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়ে ঘটনার কথা জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাঁদের ময়নাগুড়ি থানায় নিয়ে অভিযোগ দায়ের করার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া বলেন, “ঘটনার অনেক পর অভিযোগ হল কেন তা বুঝতে পারিনি। পরিবারটির উত্তর সন্তোষজনক নয়। তবুও আমরা মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করাচ্ছি। তদন্ত হচ্ছে।’’ পুলিশ সুপার জানান, পরিবারটি জোরপাকড়ি গ্রাম থেকে জলপাইগুড়িতে আসতে পারলেন অথচ ময়নাগুড়ি থানায় কেন গেলেন না, তা স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত। কিছু দিন আগে সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয় নির্যাতিতা শিশুর পরিবারও। ঘটনার মধ্যে রাজনীতি নেই বলে দাবি স্থানীয় সিপিএম এবং তৃণমূল নেতৃত্বের। সিপিএমের স্থানীয় লোকাল কমিটির সদস্য মন্টু মিশ্র বলেন, “পাড়ার ঘটনা। এখানে রাজনীতির কিছু নেই। তৃণমূল করলেও ওঁরা আমার কাছে এসেছিল। বলেছিলাম থানায় যেতে। কিন্তু পরে যোগাযোগ করেনি। হুমকির কথা তো শুনিনি।” আর তৃণমূলের ময়নাগুড়ি-২ সাংগঠনিক ব্লক কমিটির সভাপতি শশাঙ্ক বসুনিয়া বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে।” একই বক্তব্য ধর্মপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান সঙ্গীতা দত্তেরও।
এদিন জোরপাকড়ি গ্রামের বাড়িতে অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ছেলে বলেন, “ঘটনার কথা শোনার পরে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়। ওঁরা সেটা না মেনে এক লক্ষ টাকা দাবি করে আলোচনায় বসতে বলে। আমরা রাজি না হওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাবাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।” তাঁর বাবা কোথায় জানতে চাইলে ছেলে জানান, উনি বাইরে কাজে গিয়েছেন।