E-Paper

নজরে ৫১৯টি প্রজাতি, পাখিগণনায় প্রথম বঙ্গ

চেকলিস্টের সংখ্যার নিরিখে দেশের মধ্যে অষ্টম বাংলা। যেখানে ১৪,১৪৮টি চেকলিস্ট জমা দিয়ে প্রথম কেরল, সেখানে বাংলা থেকে চেকলিস্টের সংখ্যা মাত্র ২০২৭টি।

স্বাতী মল্লিক

শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০৩

ক্রিকেটে টি-২০ বিশ্বকাপ ঘরে রাখতে লড়ছে ভারতীয় দল। তবে, বাংলার পাখি-দেখিয়ে দল অবশ্য গণনার প্রতিযোগিতায় জিতে ইতিমধ্যেই কাপ পকেটে পুরে ফেলেছে। আমাদের আশপাশে থাকা পাখিদের হদিস পেতে সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী ‘গ্রেট ব্যাকইয়ার্ড বার্ড কাউন্টে’ (জিবিবিসি) যোগ দিয়েছিলেন এ রাজ্যের পাখিপ্রেমীরা। গত ১৩-১৬ ফেব্রুয়ারি, চার দিন ধরে ৫১৯টি প্রজাতির পাখি চিহ্নিত করে চতুর্থ বারের জন্য দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

বিশ্বের পাখি প্রজাতিকে চিহ্নিত করতে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও অডবন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি ফেব্রুয়ারিতে হয় এই পাখিগণনা। ২০১৩ সাল থেকে এতে অংশ নিচ্ছে ভারত। এ বছর গণনায় দেখা যাচ্ছে, পাখির প্রজাতি চিহ্নিত করার নিরিখে কলম্বিয়া ও ব্রাজ়িলের পরে তৃতীয় ভারত (১০৮৭টি)। আর ভারতের মধ্যে উত্তরাখণ্ড (৪৫৬টি) ও অসমকে (৪৩৮টি প্রজাতি) পিছনে ফেলে এ বছরও প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলা (৫১৯টি)। গত বছর জিবিবিসি-তে ৫৭৭টি প্রজাতি চিহ্নিত করে দেশের মধ্যে সোনা জিতেছিল এ রাজ্যই। এ বার সংখ্যাটা কমলেও প্রথম হওয়া আটকায়নি। বাংলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির দেখা মিলেছে বীরভূমে (২১৯টি)। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং ও মালদহ।

তবে চেকলিস্টের সংখ্যার নিরিখে দেশের মধ্যে অষ্টম বাংলা। যেখানে ১৪,১৪৮টি চেকলিস্ট জমা দিয়ে প্রথম কেরল, সেখানে বাংলা থেকে চেকলিস্টের সংখ্যা মাত্র ২০২৭টি। এ রাজ্যের পাখিপ্রেমী সংগঠন বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটির সদস্য ও জিবিবিসি-র বঙ্গের কোঅর্ডিনেটর শান্তনু মান্না বলছেন, ‘‘কারণ, এ বার অংশগ্রহণকারী পাখি-দেখিয়েদের সংখ্যা অনেকটাই কম। উচ্চ মাধ্যমিক-সহ বোর্ডের পরীক্ষা চলায় অনেকেই অংশ নিতে পারেননি। তাই চিহ্নিত প্রজাতির সংখ্যাও কমেছে। তবে এখানে পাখির বৈজ্ঞানিক তথ্য ই-বার্ড পোর্টালে তোলার পরিবর্তে বেশির ভাগই ছবি তুলতে ব্যস্ত। পাখি-দেখিয়েদের অধিকাংশই আলোকচিত্রী, তাঁদের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের অত আগ্রহ নেই।’’ তিনি আরও জানান, এ বারই প্রথম রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত তিনটি করে চেকলিস্ট জমা দেওয়া গিয়েছে।

ওই পাখিপ্রেমী সংগঠনের সদস্য ও পেশায় চিকিৎসক কনাদ বৈদ্য জানাচ্ছেন, ১৩-১৬ ফেব্রুয়ারি যে কোনও জায়গা থেকে অন্তত টানা ১৫ মিনিট আশপাশে নজর রাখতে হয়েছে। তাতেই দেখা পাওয়া পাখিদের তথ্য ই-বার্ড পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হচ্ছে। এ বছর প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ কিছু কলেজ ক্যাম্পাস থেকেও পাখিগণনা হয়েছে। কনাদের কথায়, ‘‘প্রেসিডেন্সিতে ১৫টিরও বেশি প্রজাতির দেখা মিলেছে। জোকা আইআইএম, দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকেও পাখি দেখা হয়েছে।’’ দেখা মিলেছে বেশ কিছু পরিযায়ীরও। তাদের মধ্যে বারুইপুর থেকে কমন স্টারলিং, মালদহ থেকে গ্রেটার স্কাউপ, স্মিউ, স্নোয়ী-ব্রোওড ফ্লাইক্যাচার এবং বোলপুর থেকে হোয়াইট-থ্রোটেড বুশচ্যাট উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে হোয়াইট-থ্রোটেড বুশচ্যাট অতি বিরল পাখি। পাহাড়ি পাখি স্নোয়ি ব্রাওড ফ্লাইক্যাচারের দেখা মিলেছে মালদহে।

চার বছর ধরে গণনায় প্রথম হওয়ার রহস্য কী? বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটির সেক্রেটারি সুজন চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘‘হিমালয় থেকে সমুদ্র— বাংলায় সব ধরনের হ্যাবিটাট থাকায় তা কতটা জীববৈচিত্রপূর্ণ, তা প্রমাণিত হচ্ছে। চেকলিস্টে পিছিয়ে থাকলেও প্রজাতির নিরিখে প্রথম হওয়া কেউ আটকাতে পারছে না। গত বছরের তুলনায় এ বার জিবিবিসি-তে প্রজাতি কম দেখা গিয়েছে, তবুও প্রথম হওয়া আটকায়নি!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ornithologist

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy