Advertisement
E-Paper

সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট চায় সব দল! এসআইআর নিয়ে সরব তৃণমূল, ‘কাটা আঙুল’ প্রসঙ্গ উত্থাপন বিজেপির

রবিবার রাতেই কলকাতায় চলে এসেছিলেন জ্ঞানেশরা। সকালে রাজারহাটের একটি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোটের আবেদন জানিয়েছে সব দল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৩
(বাঁ দিকে) কমিশনের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (মাঝে)। কমিশনের বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিদল (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) কমিশনের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে আসছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (মাঝে)। কমিশনের বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিদল (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পশ্চিমবঙ্গে এসে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠক করেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৈঠকে সব দলই রাজ্যে এক বা সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট করানোর আর্জি জানিয়েছে। সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে। তবে কমিশনের বৈঠকে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সরব হয় তৃণমূল এবং সিপিএম। বিজেপি তোলে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কাটা আঙুল’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গ।

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার রাজারহাট ওয়েস্টিনে।

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার রাজারহাট ওয়েস্টিনে। ছবি: পিটিআই।

রবিবার রাতেই কলকাতায় চলে এসেছিলেন জ্ঞানেশরা। সকালে রাজারহাটের একটি হোটেলে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কমিশনের বৈঠক শুরু হয়। বিজেপির তরফে বৈঠকে ছিলেন শিশির বাজোরিয়া, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাপস রায়। কমিশনের কাছে ভোট সংক্রান্ত মোট ১৬ দফা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তার মধ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দু’দফায় ভোট আয়োজনের দাবি অন্যতম। এ ছাড়াও রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদ্ব্যবহার, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বুথে বুথে ক্যামেরার নজরদারির কথা বলেছেন তাঁরা। কিছু দিন আগে জ্ঞানেশের আঙুল কেটে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সাংসদ কল্যাণ। বিজেপি চায়, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এফআইআর করুন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেই আর্জিও তাঁরা সোমবারের বৈঠকে জানিয়ে এসেছেন। তাপস বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমারের আঙুল কাটা মানে তো সংবিধানেরই আঙুল কাটা! তৃণমূলের এত বড় আস্পর্ধা হয়েছে! আমরা হিংসামুক্ত, ভয়মুক্ত, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই।’’

কমিশনের বৈঠকে এসআইআর নিয়ে কোনও কথাই বলেনি বিজেপি। শিশিরেরা জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ই চূড়ান্ত হবে। তাই কমিশনের বৈঠকে সে প্রসঙ্গ তোলা হয়নি। আলোচনা হয়েছে কেবল ভোট নিয়েই। অন্য দিকে, তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে এসআইআর-এর কথাই বার বার বলেছেন। মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, জ্ঞানেশের আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট। জ্ঞানেশ তাঁর সঙ্গে যথাযথ ভাবে কথা বলেননি বলেও অভিযোগ করেছেন চন্দ্রিমা।

কমিশনের বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিদল।

কমিশনের বৈঠকে বিজেপির প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের তরফে কমিশনের বৈঠকে চন্দ্রিমা ছাড়াও ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, রাজীব কুমার। ওই হোটেল থেকে বেরিয়ে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘এসআইআর নিয়ে যা-ই বলি, ওঁরা বলছেন, মামলা সুপ্রিম কোর্টে আছে। তা হলে আর আমাদের ডাকলেন কেন? ডেকেছেন যখন, আমাদের কথা তো শুনতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াটা কি আমাদের অন্যায় হয়েছে? বেশ করেছি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। যাব না কেন? মানুষকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’’ এর পরেই জ্ঞানেশের আচরণে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বলেন, ‘‘আমি মহিলা, আমাকে বলছেন ডোন্ট শাউট! মহিলাদের প্রতি আসলে ওঁদের শ্রদ্ধা নেই। তাই মহিলাদের নামও কেটে দিচ্ছে। আমার নাম না থাকলে সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো আপনার! কেন আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে? মহিলাদের উপর চেঁচানোটা আপনাদের কাজ নয়।’’ এসআইআর-এর কারণে রাজ্যে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি একটা ধারণা তৈরি করে দিয়েছে যে, এটা রোহিঙ্গা আর অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা। দু’মাসের এসআইআর প্রক্রিয়ায় তো তেমন কোনও প্রমাণ পাওয়া গেল না। এই মৃত্যুর দায় কার? শুধু নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এত মানুষকে কাজকর্ম ফেলে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের একটাই আবেদন, দেখবেন যেন কোনও ভারতীয় নাগরিক বঞ্চিত না হন।’’

কমিশনের বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল।

কমিশনের বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।

এসআইআর-এ সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে কমিশনের বৈঠকে সরব হয়েছে সিপিএমও। তাদের তরফে বৈঠকে ছিলেন মহম্মদ সেলিম, আফ্রিন বেগম এবং শমীক লাহিড়ী। বেরিয়ে সেলিম বলেন, ‘‘আমরা জানতে চেয়েছি কমিশন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করতে গিয়ে মানুষকে শত্রু বানাল কেন? মানুষের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ ঘোষণা করল? কেন নির্বাচন কমিশন হয়ে গেল নির্যাতন কমিশন? ভোটের আগে তো তাদের নিজেদের সম্মান বজায় রাখতে হবে।’’

কমিশনের বৈঠকে সিপিএমের প্রতিনিধিদল।

কমিশনের বৈঠকে সিপিএমের প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।

কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রবীণ নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়েরা। তাঁরা জানান, এক দফায় ভোট হলেই ভাল হয়। তবে দফা তাঁদের অগ্রাধিকার নয়। নিরপেক্ষ, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট তাঁরা চান। তার জন্য যত দফা প্রয়োজন, কমিশন তা আয়োজন করতে পারে।

কমিশনের বৈঠকে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল।

কমিশনের বৈঠকে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল। —নিজস্ব চিত্র।

রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকশেষে কমিশন একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস ছাড়াও ফরোয়ার্ড ব্লক, আম আদমি পার্টি, ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টি বৈঠকে যোগ দিয়েছিল। প্রতিটি দল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে। জ্ঞানেশ সে বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্তও করেছেন।

রাজ্যে দু’দিনের সফরে এসেছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকের পরে প্রশাসনের সঙ্গেও তাদের আলোচনায় বসার কথা। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কমিশনের বৈঠকে থাকবেন। সোমবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন জ্ঞানেশ। সেখানে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন বিক্ষোভকারীরা। শহরে আসার পর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউ টাউনের হোটেলে যাওয়ার পথেও জ্ঞানেশ বিক্ষোভের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

Election Commission Gyanesh Kumar TMC BJP Congress CPM
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy