E-Paper

প্রকাশ মিড-ডে মিলের ক্যালেন্ডার, বরাদ্দ সব দিনে খাবারের দাবি

প্রধান শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সারা বছরে স্কুল খোলা থাকে ২৪৮ দিন। বছরে রয়েছে ৫২টি রবিবার। এ ছাড়া, গরমের ছুটি, পুজোর ছুটি এবং বিভিন্ন উৎসব মিলিয়ে ছুটি থাকে আরও ৬৫ দিন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৯

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আগামী অর্থবর্ষে (২০২৬-’২৭) স্কুলপড়ুয়াদের কত দিন মিড-ডে মিল দেওয়া হবে, তার ‘পিএম পোষণ’ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করল রাজ্য সরকারের মিড-ডে মিল দফতর। তাতে বলা হয়েছে, বছরে ২৪৮ দিন মিড-ডে মিল দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হল। যদিও শিক্ষকদের বড় অংশের অভিযোগ, বছরে নির্দিষ্ট ৬৫টি ছুটি ছাড়াও নানা কারণে স্কুলে আরও ছুটি থাকে। ফলে, ২৪৮ দিন মিড-ডে মিল দেওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে স্কুল খোলা থাকে তার চেয়ে কম দিন। স্বাভাবিক ভাবেই বরাদ্দ সব দিনে মিড-ডে মিল পাবে না প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা। অতিরিক্ত ছুটির দিনগুলিতে ওই পড়ুয়াদের অন্তত শুকনো খাবার দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষকেরা।

প্রধান শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সারা বছরে স্কুল খোলা থাকে ২৪৮ দিন। বছরে রয়েছে ৫২টি রবিবার। এ ছাড়া, গরমের ছুটি, পুজোর ছুটি এবং বিভিন্ন উৎসব মিলিয়ে ছুটি থাকে আরও ৬৫ দিন। সেই কারণে বাকি ২৪৮ দিনে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে স্কুল খোলা থাকে তার চেয়ে কম দিন।

কয়েক জন প্রধান শিক্ষক এ-ও জানাচ্ছেন, পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রীষ্মের ছুটি ছ’দিন হলেও গত কয়েক বছর ধরে সেই ছুটি থাকছে ৪০ দিন বা তারও বেশি। ওই দিনগুলিতে মিড-ডে মিল পাচ্ছে না পড়ুয়ারা। অথচ, তাদের নির্ধারিত গরমের ছুটি, অর্থাৎ ছ’দিনের পর থেকেই মিড-ডে মিল পাওয়ার কথা। এ ছাড়া, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের সময়ে অনেক স্কুল ছুটি থাকে। আবার, ডিসেম্বর মাসে তৃতীয় পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষার পরে দিন দশেকের ছুটি থাকে স্কুলগুলিতে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ২৪৮ দিন মিড-ডে মিলের জন্য বরাদ্দ দেখানো হলে সব দিনেই তা দেওয়া হোক। তা না-হলে মিড-ডে মিলের জন্য বাজেটে যে টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে, তার পুরোটা খরচ হচ্ছে কি?

প্রশ্ন উঠেছে, কী ভাবে ছুটির দিনে মিড-ডে মিল দেওয়া হবে? শিক্ষকদের একাংশের প্রস্তাব, কোভিডের সময়ে যে ভাবে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের ডেকে মাসে এক দিন শুকনো খাবার, যেমন চাল, ডাল ইত্যাদি দেওয়া হত, তেমন ভাবেই তাদের অতিরিক্ত ছুটির দিনগুলিতে শুকনো খাবার দেওয়া যেতে পারে। ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, ‘‘গ্রামের গরিব পড়ুয়ারা মিড-ডে মিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। দীর্ঘ গরমের ছুটিতে বা অতিরিক্ত ছুটির দিনগুলিতে তাদের চাল, ডালের মতো শুকনো খাবার দেওয়া হোক, এই দাবিঅভিভাবকেরা বহু বার করেছেন। আমরা শিক্ষা দফতরকেও অনেক বার জানিয়েছি।’’

‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’র এক নেতার কথায়, ‘‘২৪৮ দিনের জন্য মিড-ডে মিলের অনুমোদন দেওয়া হলেও সব দিন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তো ছোট পড়ুয়ারা বঞ্চিত হচ্ছে।’’ ‘বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘‘দুর্গাপুজোর সময়ে ক্লাবগুলির অনুদান বাড়ায় সরকার, সেটা কি বাজেটে ধরা থাকে? অথচ, মিড-ডে মিলের বেলায় দেখা যাচ্ছে, ২৪৮ দিনের অনুমোদন থাকলেও তত দিনের খাবার পাবে না পড়ুয়ারা। অতিরিক্ত ছুটির দিনগুলিতে শুকনো খাবার বা স্কুল চালু থাকার সময়ে মিড-ডে মিলের সঙ্গে ফল দিয়ে বাজেট পূরণ করা হোক।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Midday Meal Midday Meal Scheme

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy