E-Paper

নতুন আলুর দাম কম, অপেক্ষা করতে চান চাষিরা

জমি তৈরি, বীজ ও সার কেনা, শ্রম মিলিয়ে আলু চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, তার নিরিখে এই দর ভাল নয় বলেই দাবি চাষিদের।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৫
জমি থেকে নতুন আলু তুলছেন চাষি। সোমবার নলহাটির চামটি বাগান এলাকায়।

জমি থেকে নতুন আলু তুলছেন চাষি। সোমবার নলহাটির চামটি বাগান এলাকায়। ছবি: রিন্টু পাঁজা।

নতুন আলু উঠছে। বীরভূমের বিভিন্ন বাজারে আলুর দাম কেজি প্রতি গড়ে ১০ টাকা। খুশি ক্রেতা। তবে, জেলার আলুচাষিরা জানাচ্ছেন, শুরুর মুখে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জমি থেকে আলু তুলে বিক্রি করলে দর পাওয়া যাচ্ছে বস্তা পিছু (৫০ কেজি বস্তা) ২৩০ থেকে ২৯০ টাকা। সেই হিসাবে দাম কেজি প্রতি গড়ে সাড়ে ৫ টাকা। বাজারে এসে পাইকারি হারে বিক্রি করলে বস্তা পিছু আরও ১০০ টাকা বেশি পাচ্ছেন চাষিরা। কিন্তু, জমি তৈরি, বীজ ও সার কেনা, শ্রম মিলিয়ে আলু চাষে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, তার নিরিখে এই দর ভাল নয় বলেই দাবি চাষিদের। ফলে, অনেকেই জমি থেকে আলু তুলছেন না। অপেক্ষা করছেন একটু দাম ওঠার।

খয়রাশোলের চাষি বাপি প্রামাণিক এ বার ৮ বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছেন। ফলনও ভাল। বললেন, ‘‘বস্তা পিছু সোমবার ২৮০-২৯০ টাকা পেয়েছি। ফলে, একটু অপেক্ষা করে নিতে চাইছি। যাতে দর বাড়ে।’’ একই কারণে অপেক্ষায় রয়েছেন খয়রাশোলের রতন বিশ্বাস। তিনি ৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। জানালেন, বোরো ধানের চাষ যাঁরা করবেন, তাঁরাই আপাতত আলু তুলে ফেলছেন। তা না হলে দাম এখন যা, তাতে আলুর খোসা মোটা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভাল।

জমিতে দাঁড়িয়ে বিক্রি না করে বাজারে পৌঁছতে পারলে দর কিছুটা বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান মুরারই ২ ব্লকের মুস্তাফাডাঙা গ্রামের চাষি নাদির হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘ভ্যান রিকশা করে বাজারে এনে পাইকারি দর পেয়েছি বস্তা পিছু ৩৫০ টাকা।’’ মহম্মদবাজারের ভুতুরা গ্রামের আলু চাষি কৌশিক মণ্ডল বাজারে এসে বস্তা পিছু ৩৮০ টাকা পাইকারি দরে আলু বিক্রি করেছেন। তবে, সেই দরও তুলনামূলক ভাবে কম বলে দাবি চাষিদের। চাষিরা জানাচ্ছেন, এ বার আলু চাষের পরিমাণ ও ফলন বেশ ভাল। সে ক্ষেত্রে পরের দিকে দর কতটা বাড়বে, তা বলা শক্ত।

জেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে জেলায় আলু চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে। জেলার কৃষি উপ-অধিকর্তা (প্রশাসন) সূর্যনারায়ণ ঘোষ বলেন, ‘‘এই মরশুমে টানা শীত পড়েছে। তার উপরে কুয়াশা না থাকায় আলু চাষ ভাল হয়েছে। ফলনও ভাল হবে বলে আশা।’’ জেলা কৃষি বিপণন দফতর সূত্রে বলা হচ্ছে, বাজারে আলু সবে উঠতে শুরু করেছে। আলুর দাম নিয়ে বলার সময় এখনই নয়। সপ্তাহ দুয়েক গেলে পরিস্থিতি বোঝা যাবে।

বীরভূম জেলা আলু ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক দীনবন্ধু মণ্ডল জানান, এই সময় যে আলু ওঠে, তা খাওয়ার জন্যই মূলত ব্যবহৃত হয়। আলুর প্রজাতির উপরও দাম নির্ভর করে না। নতুন আলু জমি থেকে ওঠার সময় দর তুলনামূলক কম থাকে। এ বার সেটাই হয়েছে। আরও বেশ কিছুদিন পরে আলুর খোসা যখন পুরু হবে, তখন দাম কিছুটা বাড়বে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Birbhum potato farmers

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy