E-Paper

মৃত্যু-মুহূর্তে ফোনে রহস্যময় বার্তা কাদের, তদন্ত

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরুলিয়া শহরের রামকৃষ্ণপল্লির শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান অনীশ মাহাতোর ঝুলন্ত দেহ মেলে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে।

নিশীথভুষণ মাহাতো

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৬:৫৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

হাত, পা ও কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছিল তরুণ। তাঁর কানে থাকা হেডফোন থেকে ভেসে আসছিল বাংলায় কণ্ঠস্বর— ‘‘প্রথমে ক্লান্তি আসবে, ঝিমুনি আসবে, অবসাদ আসবে’’। সামনে থাকা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনেও একই লেখা ফুটে উঠছিল। কিছুক্ষণ পরে আবার লেখাগুলো মিলিয়ে যাচ্ছিল। পুরুলিয়া শহরের মেধাবী তরুণের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে তাঁর বাবা অযোধ্যাপতি মাহাতো ছেলেকে উদ্ধার করার সময়ে ঘরে ঢুকে এমনই দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। শুক্রবার রাতে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগে ছেলের মোবাইল গেমের প্রতি তীব্র আসক্তি থাকার কথাও জানিয়েছেন। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে ওই তরুণের মোবাইল ফোন আটক করেছে। শনিবার টামনা থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। মোবাইল গেমের আসক্তি, অনলাইন কার্যকলাপ, নাকি অন্য কোনও কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। । তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখাও বিষয়টি দেখছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরুলিয়া শহরের রামকৃষ্ণপল্লির শিক্ষক দম্পতির একমাত্র সন্তান অনীশ মাহাতোর ঝুলন্ত দেহ মেলে বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে। তাঁর বাবা পড়শিদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ছেলেকে উদ্ধার করেন। অথচ তার পরের দিনই পরিবারের সঙ্গে অনীশের হায়দরাবাদ বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল।

মৃতের বাবা এ দিন জানান, গত তিন-চার মাস ধরে ছেলে মোবাইল গেমে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘মোবাইল গেমের কুপ্রভাব নিয়ে বহুবার ওকে সতর্ক করেছি। কিন্তু সে শুনত না। উল্টে বলত, ‘আমি বোকা নাকি?’ প্রায়ই দরজা বন্ধ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকত। বার বার ডাকলেও দরজা খুলত না। ধমকানো হলেও নিজের ইচ্ছেমতোই চলত। তবে মোবাইল গেম ছাড়া অন্য কোনও নেশা ছিল না ওর।’’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাইরে থেকে ফিরে দেখেন ঘরের দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে দেখেন, ছেলের গায়ে পোশাক নেই। পা, কোমর ও হাত অদ্ভুতভাবে বাঁধা। সেই সময় বিছানায় পড়ে থাকা মোবাইল ফোনে পর পর ওই লেখাগুলো ভেসে উঠছিল। ছেলের কানে থাকা হেডফোন থেকেও একই কথা শোনা যাচ্ছিল।

ঘটনায় হতবাক প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশী রবিলোচন মাহাতো বলেন, ‘‘এত মেধাবী, শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে কী ভাবে এমন পরিণতির দিকে গেল, তা কেউই বুঝে উঠতে পারছি না।’’ একমাত্র সন্তানের মৃত্যু এখনও মেনে নিতে পারছেন না মা শুক্লা মাহাতো। শোকে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

purulia

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy