Advertisement
E-Paper

দিনভর নানা রঙে জেলায় পালিত বিবেক জন্মজয়ন্তী

দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী পালন করল বীরভূম। স্কুলে স্কুলে প্রভাত ফেরি, প্রতিকৃতীতে মাল্যদান, স্মরণ, অলোচনাচক্র ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিনটি উদযাপিত হয়। মুরারই থানার পাইকরের স্বামীজি ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব প্রাঙ্গণে গত ১০-১৪ জানুয়ারি নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৫ ০২:০৬
বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। সোমবার রামপুরহাটে। নিজস্ব চিত্র

বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। সোমবার রামপুরহাটে। নিজস্ব চিত্র

দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী পালন করল বীরভূম। স্কুলে স্কুলে প্রভাত ফেরি, প্রতিকৃতীতে মাল্যদান, স্মরণ, অলোচনাচক্র ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বীরভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে দিনটি উদযাপিত হয়।

মুরারই থানার পাইকরের স্বামীজি ক্লাবের উদ্যোগে ক্লাব প্রাঙ্গণে গত ১০-১৪ জানুয়ারি নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাইকর গ্রামের লেখক এবং পণ্ডিতদের লেখা নানা বই, গ্রামের পুরনো দিনের যাত্রা এবং নাট্য কর্মীদের ছবি-সহ তাঁদের অভিনীত যাত্রাপালা ও নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যের ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের অবলুপ্ত মুদ্রা, দলিল প্রদর্শনীও রয়েছে। সোমবার বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। পরে ক্লাবে এলাকার রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার পরিষেবার উদ্বোধন করা হয়। ক্লাব প্রাঙ্গণে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্টল দিয়েছিল। এ ছাড়া ক্লাব প্রাঙ্গণে নানা রকম পিঠেপুলি খাবারের দোকান, ফুচকা, কাটলেট প্রভৃতির পসরা নিয়ে দোকানিরা বসেছেন। এ দিন মুরারই থানার রাজগ্রামে বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠেও সারাদিন ধরে নানা অনুষ্ঠান হয়। সেখানে সহস্রাধিক মানুষ পংক্তিভোজ করেন।

অন্য দিকে, বিবেকানন্দ জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে এ দিনই রামপুরহাটের রক্তকরবী পুরমঞ্চে ‘রামপুরহাট আবৃত্তি পরিষদ’ বিবেকানন্দের জীবনী এবং তাঁর বাণী নিয়ে একটি গীতিআলেখ্য পরিবেশন করে। রামপুরহাট শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা পাঠচক্রের উদ্যোগে সকালে শোভাযাত্রাও বের হয়। রামপুরহাট রক্তকরবী পুরমঞ্চে বিবেক চেতনা উৎসবের সূচনা করেন রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুর দিকে দর্শকাসন ফাঁকা থাকলেও পরের দিকে অঙ্কন, আবৃত্তি প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় দর্শক সংখ্যা বাড়ে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডেপুটি ম্যজিস্ট্রেট দীপককুমার মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন রামপুরহাট ১ ব্লক যুব আধিকারিক শোভনকুমার মণ্ডল।

এ দিন বোলপুর-শান্তিনিকেতনের বিভিন্ন স্কুল ও ক্লাবের পাশাপাশি তৃণমূল ও কংগ্রেসের উদ্যোগেও আলাদা ভাবে এলাকায় নানা অনুষ্ঠানও হয়েছে। আইএনটিইউসি-র উদ্যোগে দুর্গাপুর বি জোন আদিবেদী ক্লাবের শতাধিক সদস্যেরা, সকল স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য একটি সাইকেল র্যালিতে এলাকা ঘোরেন। শান্তিনিকেতনের উত্তরায়ণের সামনে বিশ্বভারতী অধ্যাপক সভার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয় জেলা আইএনটিইউসি নেতা মৃণাল কান্তি বসু। কংগ্রেস নেতা কিশোর ভট্টাচার্য, কংগ্রেস সেবাদলের পক্ষে দেব কুমার দত্ত, ফারুক আহমেদরা উপস্থিত ছিলেন ওই অনুষ্ঠানে।

অন্য দিকে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে এ দিন সকালে এলাকার একাধিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নিয়ে প্রভাত ফেরি এবং একটি শোভাযাত্রার আয়োজন হয়। শহর ঘোরে ওই শোভাযাত্রা। বিবেকানন্দের প্রতিমূর্তিতে মাল্যদান করেন এলাকার বিশিষ্ট মানুষেরা। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী প্রমুখ। এ দিন বিকেলে বোলপুর স্টেডিয়ামে মহিলাদের একটি ফুটবল প্রতিযোগিতাও ছিল। উদ্যোক্তারা বোলপুর এবং নানুর এলাকার শতাধিক দুস্থদের হাতে। এ দিন কীর্ণাহারের বাসিন্দা তরুন কুমার প্রামাণিকের উদ্যোগে কম্বল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় বোলপুর স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থাকা দুঃস্থদের হাতেও শতাধিক কম্বল ও মিষ্টি বিতরণ করেন তিনি।

দুবরাজপুরেও পালিত হল বিবেকানন্দ জন্মজয়ন্তী। সোমবার সকালে দুবরাজপুর পুরসভার উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। তাতে যোগ দেয় পুরসভার ২৫টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্রছাত্রীরা। পাহাড়েশ্বর লাগোয়া বিবেকানন্দের মূর্তিতে মাল্য দান অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পুরপ্রধান পীযূষ পাণ্ডে, উপপুরপ্রধান মির্জা সৌকত আলি-সহ একাধিক কাউন্সিলর। বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী সাড়ম্বড়ে পালিত হল রাজনগরেও। রাজনগরে চন্দ্রপুরে ম্যারাথন দৌড়, প্রভাত ফেরি, দিনভর নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও একটি ভলিবল প্রতিযোগিতা হয়েছে। রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা সুকুমার সাধু জানান, ৩৬টি দল নিয়ে আয়োজিত ভলিবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে গড়দরজা ড্রামাটিক ক্লাব।

মহম্মদবাজার ব্লক কার্যালয় চত্বরে স্বামীজির একটি আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন হল এ দিন। সোমবার মূর্তিটির উন্মোচন করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। মূর্তি উন্মোচনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন মহম্মদবাজারের বিডিও সুমন বিশ্বাস। এ দিন মূর্তি উন্মোচনের আগে ব্লক কার্যালয় থেকে আঙ্গারগড়িয়া মোড় পর্যন্ত একটি বর্ণময় শোভাযাত্রা বের হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী, নরসিংঘপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী প্রণবানন্দ-সহ বহু বিশিষ্টজন। এর পরেই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেই সঙ্গে ছিল ক্যুইজ, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি ও গানের প্রতিযোগিতাও। এলাকার প্রায় ৮০ জন ছেলেমেয়ে ওই সব প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়।

আশিসবাবু স্বামীজির আদর্শ ও ভাবধারার উল্লেখ করে বর্তমান প্রজন্মকে স্বামীজির আদর্শে চলার আহ্বান জানান। সুমনবাবু বলেন, “ব্লক চত্বরে স্বামীজির কোনও মূর্তি ছিল না। তাই মনে মনে ঠিক করেছিলাম এ বার স্বামীজির জন্মদিনে মূর্তি স্থাপন করবই। এ দিন মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে আমার ও ব্লকের সমস্ত কর্মীর মনের একটি সুপ্ত ইচ্ছা পূর্ণ হল।”

rampurhat bibek janmajayanti
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy