Advertisement
E-Paper

বেহাল শহরের ৩৩টি রাস্তা, রিপোর্ট না দেওয়ায় বন্ধ কাজ

লোকসভা নির্বাচনের আগে রামপুরহাট পুর এলাকায় ঘটা করে শুরু হয়েছিল ৩৩টি রাস্তার সংস্কারের কাজ। বর্ষা এসে পড়লেও সে কাজ এখনও বিশ বাঁও জলে। আর তাতেই নাভিশ্বাস পুর-বাসিন্দাদের। তৃণমূলের পুরসভার দাবি, “টাকার অভাবে সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না রামপুরহাট পুরসভা এলাকার সংস্কার।” বর্ষার শুরুতেই রামপুরহাট পুরসভার যে রাস্তাগুলির পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে ডাক্তার পাড়া ও চাল ধোওয়ানি পাড়ার রাস্তা।

অপূর্ব চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০১৪ ০০:১১
রাস্তা? রামপুরহাটের ডাক্তার পাড়ায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

রাস্তা? রামপুরহাটের ডাক্তার পাড়ায় তোলা নিজস্ব চিত্র।

লোকসভা নির্বাচনের আগে রামপুরহাট পুর এলাকায় ঘটা করে শুরু হয়েছিল ৩৩টি রাস্তার সংস্কারের কাজ। বর্ষা এসে পড়লেও সে কাজ এখনও বিশ বাঁও জলে। আর তাতেই নাভিশ্বাস পুর-বাসিন্দাদের। তৃণমূলের পুরসভার দাবি, “টাকার অভাবে সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না রামপুরহাট পুরসভা এলাকার সংস্কার।”

বর্ষার শুরুতেই রামপুরহাট পুরসভার যে রাস্তাগুলির পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে ডাক্তার পাড়া ও চাল ধোওয়ানি পাড়ার রাস্তা। হাসপাতাল ও রামপুরহাট স্টেশন যাওয়ার জন্য রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই এলাকার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। খানা-খন্দে পড়ে চাকা পাম্পচার, যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এইসব রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী বেশিরভাগ চালকের।

রামপুরহাট ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে চৌরঙ্গি ক্লাব মোড় থেকে ঘটক পুকুরমোড় পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি রাস্তার বেহাল অবস্থার কথাও উঠে এল এলাকাবাসীর অভিযোগে। একই অবস্থা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরঙ্গি ক্লাব মোড় থেকে নবীন ক্লাব যাওয়ার রাস্তা, বা রামপুরহাট থানা যাওয়ার জন্য ১০ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়া বড় মসজিদ থেকে চৌরঙ্গি ক্লাব মোড় যাওয়ার রাস্তার কথা। বেহাল এই চিত্র রামপুরহাট হাটতলার ভিতরেও। রামপুরহাটের বড় সব্জী বাজার, মাছ বাজার, কাপড়ের দোকান, ষ্টেশনারী দোকান, জটাধারী মন্দির হয়ে রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ে বাড়ির পাশ দিয়ে গণেশ মন্দির যাওয়ার রাস্তাটিও সংস্কারের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে ভেসে যায়। চলাচলকারী মানুষের নাজেহাল অবস্থা হয়। হাটের নোংরা কাদার মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

রামপুরহাট পুরসভা সূত্রে খবর, ‘বেসিক মিনিমাম সার্ভিসেস প্রোগ্রাম’ প্রকল্পে ওই রাস্তা গুলি সংস্কারের কাজ শুরু হয় পুরসভার ১৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একমাত্র ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দিয়ে বাকী ১৬ টি ওয়ার্ডে। ছোট বড় ৩৩ টি রাস্তা ঢালাই করার জন্য পুরসভা পরিকল্পনা নেয়। কাজ শুরু হয় ৩১ টি রাস্তার। পুরসভার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী রাস্তাগুলি সংস্কার করার জন্য ২ কোটি ৭২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

পুরপ্রধান তৃণমূলের অশ্বিনী তিওয়ারি বলেন, “রাস্তাগুলি সংস্কারের জন্য ৫০ শতাংশ টাকা পাওয়া গিয়েছে। ইউ সি রিপোর্ট রাজ্য সরকারের পুর উন্নয়ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রোগ্রেস রিপোর্ট এখনও পাঠানো হয়নি। খুব শীঘ্রই ওই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। টাকা এলেই বাকি কাজ শুরু হবে।”

পুরসভার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, যে রাস্তাগুলির সংস্কার করা হয়েছে, সেই অংশেও জায়গায় জায়গায় ঘরে ঘরে পানীয় জলের নতুন সংযোগ দিতে গিয়ে ঢালাই রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। আড়াআড়ি ভাবে রাস্তা খুঁড়ে পুরসভার জলের পাইপের সঙ্গে বাড়ির সংযোগকারী পাইপ জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢালাই রাস্তার কাটা অংশ আর সংস্কার করা হচ্ছে না। এর ফলেও রাস্তার মধ্যে খানা-খন্দ তৈরি হয়েছে বহু এলাকায়।

সংস্কার করার জন্য যে সমস্ত রাস্তা খোঁড়ার কাজ হয়েছিল সেই সমস্ত রাস্তায় পাথর বেরিয়ে থাকার জন্য পথযাত্রী প্রায়ই দিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। বর্ষার মরশুমে রাস্তার জমা জল ছিটকে বেকায়দায় ফেলছে পথচারীদের। পুরসভা কবে টাকা পাবে, ততদিন কতদিন পুরবাসী নাকাল হবেন, সে প্রশ্নের উত্তরে পুরপ্রধান বলেন, “রাস্তা সংস্কারের জন্য বাকি টাকা ‘প্রোগ্রেস রিপোর্ট’ না জমা দিলে পাওয়া যাবে না। টাকা পেলে আবার কাজ শুরু হবে।” এখন দেখার কতদিনে ‘প্রোগ্রেস রিপোর্ট’ জমা পড়ে, হাল ফেরে পুর-এলাকার ৩৩টি রাস্তার।

bad road condition rampurhat municipality apurba chattopadhyay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy