মাটির ঢিবি। ও-পারে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝড়ুটোলা। এ-পারে মালদহের বৈষ্ণবনগরের সুকদেবপুর। শনিবার এমনই জ়িরো পয়েন্টে শিশু-কিশোর, মহিলা-সহ দাঁড়িয়ে থাকা জনা কুড়িকে ঘিরে উত্তপ্ত হল সীমান্ত। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার রাতে বাংলাদেশি সন্দেহে সে দেশে তাঁদের ‘পুশ ব্যাক’ (ফেরত পাঠানো)-এর চেষ্টা করে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ও-পারের নাগরিকদের বাধায় জ়িরো পয়েন্টে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাঁদের।
এ দিন বিএসএফ ওই জনা কুড়িকে পরে, বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) রাখে। তাঁদের মধ্যে দু’জন পুরুষ, ১২ জন মহিলা এবং বাকি শিশু-কিশোর। বিএসএফের দাবি, তাঁরা বাংলাদেশি। বাহিনীর মালদহ রেঞ্জের এক কর্তা বলেন, “নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকার করছে বাংলাদেশ। মানবিকতার কারণেই জ়িরো পয়েন্ট থেকে তাঁদের উদ্ধার করেছি।” গত সপ্তাহে নদিয়ার করিমপুরেও জ়িরো পয়েন্টে তিন দিন আটকে থাকা ১২ জনকে ‘মানবিক কারণে’ ভারতে ঢুকতে দিয়েছিল বিএসএফ।
সুকদেবপুর সীমান্তে ১২০০ মিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। তবে বিএসএফের পাহারা আছে। গত বছর বেড়া দেওয়া ঘিরে সুকদেবপুরে দু’দেশের নাগরিকদের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি হয় বলে অভিযোগ। এ দিনও জ়িরো পয়েন্টের কাছাকাছি চলে আসেন বহু বাংলাদেশি। এ-পারের লোকজনকে আটকে দেয় বিএসএফ। পরে, জ়িরো পয়েন্টে আটকে থাকাদের বিএসএফ ফেরানোয়, চলে যান ও-পারের লোকজন। বিজিবির দাবি, আলোচনা ছাড়াই ‘পুশব্যাক’ করা হচ্ছিল বলে আপত্তি জানানো হয়। বৈষ্ণবনগরের বিজেপি বিধায়ক রাজু কর্মকার বলেন, “বাংলাদেশ নিজের নাগরিকদের নিতে অস্বীকার করছে। যাঁরা ভারতে বেআইনি ভাবে আছেন, তাঁদের পুশব্যাক করা হবে।” সূত্রের দাবি, এ দিন আলিপুরদুয়ারের কালচিনির আটক শিবিরে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে জনা ত্রিশকে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে পাঠানো হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)