যে সংস্কৃতি বন্ধ করার আশায় বাংলার মানুষ তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপিকে এনেছেন, কার্যত সেই সংস্কৃতি এখনও রাজ্যে বর্তমান বলে আক্ষেপ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। বুধবার এক শিল্প সংস্থার অনুষ্ঠানে তিনি খেদের সঙ্গে বলেন, ‘‘গত দেড় মাসে দেশের সব প্রথম সারির শিল্পপতিরা আমার সঙ্গে বৈঠক করে তার পর সরকারের কাছে যাচ্ছেন। এমনকি আজও আমাকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধিকে না ডাকার এই প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আমরা এর থেকে বাংলাকে মুক্ত করতে চাই।’’
শমীকের মতে, গত ৫০ বছর ধরে যে দলগুলি রাজ্য শাসন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে সরকার সিদ্ধান্ত নিত না। দলই শেষ কথা বলত। মানুষ তার বিরুদ্ধে বিজেপিকে এনেছেন। কিন্তু শিল্পকর্তারা পুরনো অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। মানসিকতা এক রয়ে গিয়েছে। অথচ রাজ্য চালাতে দলকে প্রাধান্য দেওয়ার কুফল এই প্রজন্মও ভোগ করছে। শমীকের কথায়, ‘‘শিল্পকর্তারা সরকারের আগে আমার কাছে আসছেন। ভাবছেন, আমি বললেই হবে। কিন্তু আমি সরকার নই। দলের প্রতিনিধি। তবে এই সরকারে আমার আস্থা আছে। কিছু করবে।’’
একই সঙ্গে শমীক বলেন, ‘‘রাজ্যে টাটা আসবে, বাটা আসবে, বিড়লারা আসবে। আদিত্য বিড়লাকে বাম আমলে হেনস্থা করা হয়েছিল। তার পরেও বিড়লা গোষ্ঠীর কাছে আবেদন করেছি, এই রাজ্যের সঙ্গে আপনাদের নাড়ির টান। তাই নতুন করে লগ্নি করুন।’’ ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেই খবর। সূত্র জানাচ্ছে, শীঘ্রই আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর কর্ণধার কুমার মঙ্গলম বিড়লা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। শমীকের দাবি, অশোকনগরে তেল, বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ, বাঁকুড়া-কালিম্পংয়ে সোনা, রানাঘাটে প্রাকৃতিক গ্যাস মিলেছে। এগুলি রাজ্যের শিল্পায়নকে এগিয়ে দেবে। শমীকের বার্তা, কর্মসংস্থানের হাল ফেরাতে এবং রাজ্যের উন্নতির জন্য বড় শিল্প ছাড়া বিকল্প নেই। তার হাত ধরে আসবে ছোট-মাঝারি শিল্পও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)