মঙ্গলবার বিধানসভার বাদল অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। প্রথম দিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ামৃত্যুর ঘটনায় বিজেপি-তৃণমূল চাপানউতরে তপ্ত হয়ে উঠল অধিবেশন। পাঁচতারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার মৃত্যুতে সরাসরি রাজ্য সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জবাব দিতে উঠে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আবার গোটা ঘটনার দায় চাপালেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সিভি আনন্দ বোসের ঘাড়ে।
শুভেন্দু মঙ্গলবার বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-বিরোধী শক্তির ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে মাদক পাচার হয়, র্যাগিং হয়। ঢিলছোড়া দূরত্বে থানা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’ জবাব দিতে উঠে পাল্টা ব্রাত্য বলেন, ‘‘আপনারা মাদক পাচারের কথা বলছেন। এটা দেখার দায়িত্ব নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর।’’ প্রসঙ্গত, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো কেন্দ্রীয় সংস্থা। ব্রাত্য এই কথা বলা মাত্র হইহই করে ওঠেন বিজেপি বিধায়করা। তাঁরা বলতে থাকেন, রাজ্যের হাতেও সংস্থা রয়েছে। সেই সময়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেন।
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলনেতা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।’’ শুধু তা-ই নয়, প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তীর কথাও অধিবেশনে উত্থাপন করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী সিসিটিভি লাগাতে চেয়েছিলেন বলে আমাকে বলেছেন। কেন তাঁর মেয়াদ শেষের আগে সরানো হল?’’
ব্রাত্য তাঁর জবাবি বক্তৃতায় বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ২০০৯-এর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, রাঘবন কমিটির রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘রাজ্যপাল নিজের ইচ্ছামতো উপাচার্য বসাচ্ছেন। উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য ১০০ শতাংশ দায়ী রাজ্যপাল।’’ গত ৯ অগস্ট রাতে প্রথম বর্ষের ছাত্রটি হস্টেলের তিন তলা থেকে পড়ে যায় (কারও কারও দাবি ফেলে দেওয়া হয়)। পরের দিন সকালে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সেই সময়ে যাদবপুরে কোনও উপাচার্য দায়িত্বে ছিলেন না। গত শনিবার বুদ্ধদেব সাউকে উপাচার্য নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল। তাঁরও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর জবাবের মাঝেই অসন্তোষ প্রকাশ করে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিজেপি পরিষদীয় দল।