Advertisement
E-Paper

এ বার গৌড় কলেজে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

সপ্তাহ দু’য়েক আগে এক প্রস্থ মারধরের পরে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন পুরাতন মালদহের গৌড় কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার পরিচয়পত্র নিতে কলেজে গেলে, ‘সিনিয়র’রা জোর করে কলেজের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করে বুকে-পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে মদ খেতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ১৬:২৫

সপ্তাহ দু’য়েক আগে এক প্রস্থ মারধরের পরে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন পুরাতন মালদহের গৌড় কলেজের প্রথম বর্ষের এক ছাত্র। গত বৃহস্পতিবার পরিচয়পত্র নিতে কলেজে গেলে, ‘সিনিয়র’রা জোর করে কলেজের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করে বুকে-পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে মদ খেতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ। প্রথম বর্ষের ওই পড়ুয়া তখন সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে ‘সিনিয়র’রা পালিয়ে যায়। বিকেলে এক বন্ধু ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ওই ছাত্রকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। ছাত্রের পরিবারের তরফে অজ্ঞাতপরিচয় তিন কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছেন।

র‌্যাগিং রুখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যতই নির্দেশিকা জারি করুক, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে যে র‌্যাগিং চলছেই তা ফের গৌড় কলেজের ঘটনা দেখিয়ে দিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস ছেড়েও চলে যান। তা নিয়ে সারা রাজ্যেই হইচই পড়ে গিয়েছিল। তারপরে আবার র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন।

র‌্যাগিঙের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও। মাস কয়েক আগেই সংস্কৃতে অর্নাস নিয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন মালদহের বাসিন্দা ওই ছাত্রটি। পুজোর পর থেকে কলেজে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়। ক্লাস শুরুর পরেই সিনিয়রদের একাংশ তাঁর উপর নানা ভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে বলে অভিযোগ। সপ্তাহ দু’য়েক আগে এক সিনিয়র ছাত্র তাকে সকলের সামনে চড় মারে বলেও অভিযোগ। তার পর থেকেই ছাত্রটি কলেজ যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান থাকায় কলেজের পঠনপাঠন বন্ধ ছিল। কলেজের পরিচয়পত্র নিতে সে দিন দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ ছাত্রটি কলেজে যায়। সে সময় এক সিনিয়র ছাত্র তাঁকে জোর করে কলেজের পাশেই একটি ঝোপের আড়ালে মদের আসরে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ছাত্রের অভিযোগ, ‘‘এক ঝাঁকড়া চুলওয়ালা দাদা আমাকে টেনে হিঁচড়ে মদের আসরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি আরও দুই দাদা বসে রয়েছে। ওই ঝাঁকড়া চুলের দাদাটিই সপ্তাহ দু’য়েক আগে আমাকে মেরেছিল।’’

ছাত্রটির অভিযোগ তাকে মদ খেতে বলা হয়। সে আপত্তি করলে তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। জামা খুলতে বাধ্য করা হয়। বুকের মধ্যে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিতে থাকে সিনিয়র দাদারা। প্যান্টের উপর দিয়েই হাঁটুর উপরের অংশেও ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এরপরে ছাত্রটি ভেঙে পড়লে, জোর করে মদ খাইয়ে দেওয়া হয়। ছাত্রটির দাবি, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিনিয়ররা পালিয়ে যায়। এরপরে তিনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন বলে দাবি। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ হুঁশ ফিরলে মোবাইলে এক বন্ধুকে ডাকেন, তিনি গিয়ে ওই ছাত্রকে বাড়ি পৌঁছে দেন। ছাত্রের পরিবারের দাবি, বাড়িতে এসে প্রথমে কোনও ঘটনাই বলতে চাননি তিনি। বারবার জিজ্ঞেস করার পরে পুরো ঘটনাটি জানান। রাতে অসুস্থতা বাড়লে তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। থানায়ও অভিযোগ দায়ের হয়। শুক্রবার সকালে ছাত্রটির শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

অভিভাবকদের একাংশের প্রশ্ন, সপ্তাহ দু’য়েক আগে থেকেই ছাত্রটি র‌্যাগিঙের শিকার হলেও, কলেজ কর্তৃপক্ষ কেন কিছুই জানতে পারল না? কলেজে নজরদারির জন্য অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটির সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ দিন নিগৃহীত ছাত্রকে দেখতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোপাল মিশ্র। উপাচার্য বলেন, ‘‘কী হয়েছে খতিয়ে দেখা হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তদন্ত কমিটি গঠন করে খতিয়ে দেখবে।’’

কলেজের পাশে মদের আসরের খবরও কী কর্তৃপক্ষ জানতেন না? কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিরঞ্জন মৃধা বলেন, ‘‘ঘটনাটি কলেজের ভিতরে হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’’ কলেজের ছাত্র সংসদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে। এ দিন মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিগৃহীতকে দেখতে গিয়েছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস। তাঁর কথায়, ‘‘ছাত্রটি অভিযুক্তদের নাম জানে না বলছে। আমাদের দাবি দ্রুত তাঁর সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ করতে হবে। অভিযুক্তরা যে হোক, যে দলের সমর্থকই হোক, তাদের কঠিন শাস্তি দিতে হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy