বিমানবন্দর লাগোয়া একটি হোটেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ। বৈঠকে ছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ, জাভেদ খান, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এই তৃণমূল বিধায়কদের প্রত্যেকেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে রয়েছেন।
তবে কী বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠক হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি বিদ্রোহী বিধায়কেরা। হোটেল থেকে বেরোনোর সময় মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীনকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। সম্প্রতি ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত এবং সন্দীপন ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে বলে জানা যায়। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল। ছিল সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহার নাম। মুখ্যসচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল আখরুজ্জামানের নাম। চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের সভানেত্রী বলে উল্লেখ করেন বিদ্রোহীরা। বুধবার ঋতব্রত অবশ্য দাবি করেন, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম করেননি তিনি।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেবকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান, তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল।