Advertisement
২২ জুন ২০২৪

ট্র্যাফিককে পথ দেখাচ্ছে আইআইটি

কংক্রিটের জঙ্গলে ঘেরা শহরে রাস্তা বাড়ানোর উপায় নেই। কিন্তু বাড়তে পারে গতি! শহরের রাস্তায় চলা যাত্রিবাহী গাড়ি বিশেষ করে বাসের ক্ষেত্রে এ বার এমনই পরিকল্পনা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। তার পথ প্রদর্শক খড়্গপুর আইআইটি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৮ ০১:৩৯
Share: Save:

কংক্রিটের জঙ্গলে ঘেরা শহরে রাস্তা বাড়ানোর উপায় নেই। কিন্তু বাড়তে পারে গতি!

শহরের রাস্তায় চলা যাত্রিবাহী গাড়ি বিশেষ করে বাসের ক্ষেত্রে এ বার এমনই পরিকল্পনা নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। তার পথ প্রদর্শক খড়্গপুর আইআইটি। তাদেরই দেখানো পথে কী ভাবে সেই কাজ হবে ইতিমধ্যেই তার পরীক্ষানিরীক্ষাও শুরু হয়েছে শহরের রাস্তায়। মঙ্গলবার দেশপ্রিয় পার্ক মোড়ে তা পরিদর্শন করলেন ডেপুটি কমিশনার (ট্র্যাফিক) সুমিত কুমার। ছিলেন খড়্গপুর আইআইটি-র অধ্যাপক ভার্গব মৈত্র।

এ দিন দেশপ্রিয় পার্ক ক্রসিংয়ে গিয়ে গড়িয়াহাটের দিক থেকে আসার রাস্তায় চলেছে পরীক্ষানিরীক্ষা। মোড় থেকে বেশ কিছুটা দূরে বাস, অটোকে একটি লেনে এবং অন্য সব গাড়িকে পাশের লেনে ঢোকানো হচ্ছে। সিগন্যাল লাল হতেই বাস ও অটো ক্রসিংয়ের একেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর তার থেকে ১০০ মিটার দূরে দাঁড়াচ্ছে অন্য সব গাড়ি। সিগন্যাল সবুজ হতেই বাস ও অটোর সঙ্গে সহজেই বেরিয়ে যাচ্ছে অন্য গাড়িও। ভার্গববাবু বলেন, ‘‘বাস ও অটো যে লেনটি দিয়ে বেরোচ্ছে সেটিকে বলা হচ্ছে কিউ জাম্প লেন। অন্য গাড়ির লেনটি হচ্ছে প্রি-সিগন্যাল লেন।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, সাধারণ ব্যবস্থায় সিগন্যাল লাল হতেই ক্রসিংয়ের সামনে যে কোনও গাড়ি যেমন ভাবে খুশি দাঁড়িয়ে যায়। এর ফলে কয়েকশো ব্যক্তিগত গাড়ির পিছনে বা মাঝে দাঁড়িয়ে যায় বড় বাস,অটো। কিছু সময় পরে সিগন্যাল সবুজ হলেও সেই জট কাটাতেই অনেক সময় লেগে যায়। তাতে দেখা যায় যাত্রিবাহী গাড়িটি সিগন্যাল পেরোনোর আগেই ফের হয়তো লাল হয়ে গেল সেটি। এতে ভোগান্তি হয় যাত্রীদের। ভার্গব বলেন, ‘‘যানজট ও দূ‌ষণ রুখতে ও যাত্রীবাহী গাড়ির প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়াতেই রীতিমতো অঙ্ক কষে এমন পরিকল্পনা করতে হয়েছে।’’

তিনি জানান, ক্রসিংয়ের বেশ কিছু দূর থেকেই যাত্রিবাহী ও অন্য গাড়ির আলাদা লেন হয়ে যাবে। সিগন্যাল লাল হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অন্য গাড়ির লেনের সিগন্যাল লাল হয়ে যাবে। তাতে ক্রসিংয়ের ১০০ মিটার আগে অন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে গেলেও সামনে বেশি সংখ্যক যাত্রীবাহী গাড়ি এগিয়ে যাবে। আবার ক্রসিংয়ের সিগন্যাল সবুজ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই অন্য গাড়ির লেনের সিগন্যাল সবুজ হবে। তাতে খুব সহজেই যাত্রিবাহী গাড়ির সঙ্গে ক্রসিং পেরিয়ে যেতে পারবে অন্য গাড়িগুলিও। ক্রসিংয়ের সিগন্যালের সঙ্গে অন্য গাড়ির লেনের সিগন্যাল জিপিএস-এর মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে।
সুমিতবাবু বলেন, ‘‘এতে অনেক কম সময়ে বেশি যাত্রিবাহী গাড়ি এক সঙ্গে সিগন্যাল পেরোতে পারবে।’’

কয়েক মাস আগে যাত্রিবাহী গাড়ির গতি বাড়ানোর বিষয়ে খড়্গপুর আইআইটি-র সঙ্গে আলোচনা করেন কলকাতা পুলিশের ট্র্যাফিক কর্তারা। সেখানকার সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রস্তাব মতো লেক স্টেডিয়ামের রাস্তায় ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থার পরীক্ষা করা হয়েছে। এ বার করা হল দেশপ্রিয় পার্কে। সুমিতবাবু জানান, রাস্তায় লেন ভাগের বোর্ডও লাগানো হবে। যাঁরা তা মানবেন না, তাঁদের সিগন্যাল অমান্য করার কেস দেওয়া হবে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE