বাংলা ভাষায় তাঁকে কেন চিঠি দেওয়া হয়েছে? এমনই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় অচিরাচরিত শক্তি বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে পাল্টা চিঠি দিলেন কার্শিয়াঙের বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। গত ২৬ ডিসেম্বর অচিরাচরিত শক্তি বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদের দফতর থেকে একটি চিঠি পান এই গোর্খা বিধায়ক। সেই চিঠিটি লেখা হয়েছিল বাংলায়। যেখানে মন্ত্রী বিজেপি বিধায়ককে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের শুরু করা ‘পিএম সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’ প্রকল্পের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করতে বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিজেপির সব বিধায়ককেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে খবর। কিন্তু চিঠিটি বাংলায় লেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কার্শিয়াঙের বিধায়ক।
সেই চিঠির পাল্টা চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ। তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলায় যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। আমি বাংলা ভাষার বিরোধিতাও করি না। কিন্তু আমরা গোর্খারা ভাষাগত সমস্যার সম্মুখীন। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের নেপালি ভাষাও স্বীকৃত ভাষা, তাই চিঠিটি সেই ভাষাতে লেখা হল না কেন?’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে পাল্টা চিঠি পাঠানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, ‘‘কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আমাদের সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছে। কিন্তু তার জন্য কী করা হচ্ছে? কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত ইংরেজি থেকে হিন্দি ভাষায় কাজকর্ম করে। সেখান থেকেও আমাদের বাংলায় চিঠি লেখা হচ্ছে। তা হলে তারা আমাদের সমস্যার সমাধান কী ভাবে করবে? সেই বিষয়গুলির কথা উল্লেখ করে আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি লিখেছি।’’ প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে পাহাড়ের মানুষ গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে বিজেপিকে সমর্থন করে এসেছে। কিন্তু এখনও গোর্খাল্যান্ডের দাবি পূরণ হয়নি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বিষ্ণুপ্রসাদের বিরোধ এখন আর কোনও নতুন বিষয় নয়। গত কয়েক বছর ধরেই নানা ইস্যুতে বিজেপির সঙ্গে নীতিগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে তাঁর। বিধানসভায় বিজেপি পরিষদীয় দলের অনুমতি না নিয়েই তিনি অম্বেডকর মূর্তির নীচে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ধর্না দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিঙে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়িয়ে দলের রোষানলে পড়েন এই গোর্খা বিধায়ক। তাঁর এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে বিজেপি কোনও কড়া পদক্ষেপ না করলেও, দলগত ভাবে বিষ্ণুপ্রসাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে বিজেপি আর টিকিট দেবে না বলেই বিজেপি সূত্রে খবর। তিনিও আর ভোটে দাঁড়াতে রাজি নন, বরং একক ভাবে গোর্খাল্যান্ড এবং গোর্খাদের দাবি নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করার বিষয়ে মনস্থির করেছেন এই বিদ্রোহী বিধায়ক।