বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র খুনের ঘটনায় ধৃতদের জামিন খারিজ করল বোলপুর আদালত। তদন্তে নেমে নিহত নিশান্ত কিরণের দুই সঙ্গীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। সোমবার ধৃতদের আদালতে পেশ করার দিন ছিল। এ দিন পুলিশের তরফে ধৃতদের হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। সরকারি আইনজীবী ফিরোজকুমার পাল জানান, “বোলপুরের ভারপ্রাপ্ত এসিজেএম সৌরভ নন্দী ধৃতদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছন।”
সোমবার অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বিশ্বনাথ সরকার বিচারকের কাছে ধৃতদের জামিনের আর্জি জানান। তিনি দাবি করেন, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে গিয়েছিল ওই দুই ছাত্র। কিন্তু পুলিশ তাদেরই গ্রেফতার করে। যদিও বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। নির্দেশ শুনে এ দিন আদালত চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ধৃত দুই ছাত্রের পরিবারের লোকেরা। সুমিত কুমারের বাবা সুমন কুমার ঝা এবং বারিক আশিস কুমারের ভাই বারিক অলোক কুমারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে কারা কারা যুক্ত, এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম বলার পরেও পুলিশ সুমিত এবং আশিসকে গ্রেফতার করে। তাঁদের অভিযোগ, আসল অপরাধীকে আড়াল করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে ফাঁসানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ২০ তারিখ, রবিবার ভোর রাতে বোলপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কে বা কারা স্থানীয় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র পটনার বাসিন্দা নিশান্ত কিরণের দেহ ফেলে রেখে যায়। চিকিৎসকরা জানান, স্বাস্থকেন্দ্রে নিয়ে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছিল নিশান্তের। ঘটনার কথা জানাজানি হতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। নিশান্ত বোলপুরের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের জামবুনি এলাকার বড় ক্যানেল পাড় এলাকার একটি মেসে থাকত। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মেস এবং মাদ্রাসা পাড়ার একটি মেসের আবাসিকদের মধ্যে ঝামেলার কথা জানতে পারে। অভিযোগ ওঠে, ঘটনার দিন মাদ্রাসা পাড়ার মেসের ছাত্ররা ক্যানেলপাড়ের মেসে হামলা করেছিল।
অভিযুক্তদের খোঁজে ইতিমধ্যেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে পুলিশ। জেলার এক পুলিশ কর্তা জানান, তদন্তে জানা গিয়েছে ওই রাতে নিশান্ত কিরণের সঙ্গে অভিষেক কুন্দন এবং চন্দন কুমার নামে বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির আরও দুই ছাত্র ছিলেন। তাঁরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনও ভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তাদের খোঁজ চলছে। তবে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত মাদ্রাসা পাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্রেরও খোঁজ এখনও পায়নি পুলিশ। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও, জোরদার কোনও তথ্য-প্রমাণও জোগাড় করে উঠতে পারেননি তাঁরা। ধরা পড়েনি অভিযোগের আঙুল ওঠা মাদ্রাসা পাড়ার মেসটির কোনও আবাসিকও।
কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশান্তের মৃত্যুর খবর জেনে ২১ তারিখ ভোর রাতে বোলপুরে চলে আসেন নিশান্তের বাবা অশোক শর্মা। তিনি বোলপুর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। নিশান্তের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তার সহ-আবাসিক বারিক আশিস কুমার এবং সুমিত কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে দরকারি কাগজপত্র ছাড়াই ধৃতদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের তিরস্কারের মুখে পড়ে পুলিশ। পরের দিন কাগজপত্র-সহ তাদের আদালতে হাজির করে ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের আর্জি জানান ঘটনার তদন্তকারী অফিসার গোপালচন্দ্র চন্দ্র। বিচারক সেই আর্জি মঞ্জুর করেন।