Advertisement
E-Paper

রাজা কেন হল-এ, হেঁয়ালি প্রধানের

হবু ডাক্তারদের পরীক্ষায় টোকাটুকির ঘটনায় কারা-কারা সাহায্য করেছেন— তা নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের মধ্যেই এ বার চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:২৫
টুকলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। শনিবার মেডিক্যাল কলেজে।— নিজস্ব চিত্র।

টুকলির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। শনিবার মেডিক্যাল কলেজে।— নিজস্ব চিত্র।

হবু ডাক্তারদের পরীক্ষায় টোকাটুকির ঘটনায় কারা-কারা সাহায্য করেছেন— তা নিয়ে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের মধ্যেই এ বার চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

এসএসকেএম হাসপাতালের কিছু জুনিয়র ডাক্তারের পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধানের নাম এ ব্যাপারে আগেই উঠে এসেছিল। যদিও তাঁরা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। শনিবার মেডিসিনের সেই প্রধান রথীন্দ্রনাথ সরকার আবার নতুন একটি নাম সামনে এনে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন।

কী বলেছেন রথীন্দ্রনাথবাবু?

তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি পরীক্ষার হলে গিয়েছিলাম বলে এত কথা উঠছে। কিন্তু আমি তো বিভাগীয় প্রধান, প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও অসুবিধা হলে যেতেই পারি। আমি ছাড়া যেতে পারেন একমাত্র পরীক্ষার আহ্বায়ক। কিন্তু এক বারও তো প্রশ্ন উঠছে না— রাজা ভট্টাচার্য কেন পরীক্ষার হলে ঢুকেছিলেন?’’

কে এই রাজা ভট্টাচার্য?

তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগেরই এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। মেডিক্যাল সূত্রের খবর, তৃণমূলের চিকিৎসক সেলের প্রধান নির্মল মাজির সঙ্গে তাঁর খুবই দহরম মহরম। রথীন্দ্রনাথবাবুর কথায়, ‘‘এমবিবিএস-এর থার্ড প্রফেশন্যাল পরীক্ষায় গত বুধবার মেডিসিনের দ্বিতীয় পত্র চলাকালীন বেলা একটা নাগাদ আমি হলে ঢুকেছিলাম। কারণ, প্রশ্নের কিছু জায়গা বুঝতে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু আমার পাশাপাশি রাজা ভট্টাচার্য-ও হলে ঢুকে পড়েন।’’

রাজাবাবু হলে ঢুকে কী করেছিলেন? জানতে চাওয়া হলে রথীন্দ্রনাথবাবু-র জবাব, ‘‘সেটা আর আমার কাছে জানতে চাইবেন না!’’

তিনি রাজা ভট্টাচার্যকে ঢুকতে বারণ করলেন না কেন, প্রশ্ন করা হলে রথীন্দ্রনাথবাবু উত্তর দেন, ‘‘সেটা আমার করার কথা নয়। সেন্টার ইনচার্জের দেখার কথা।’’ আর সেন্টার ইনচার্জ আমল সিংহরায়ের মন্তব্য, ‘‘রথীন্দ্রনাথবাবু এবং রাজা ভট্টাচার্য যে দুপুরের দিকে পরীক্ষার হলে ঢুকেছিলেন, সেই খবরটাই আমি পাইনি! এটা তো ইনভিজিলেটরদের দেখা উচিত। তবে আমি খোঁজ নিচ্ছি।’’

মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের একাধিক চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ৬ জানুয়ারি পরীক্ষা শুরুর আগে শাসক দলের দক্ষিণ কলকাতার এক মাঝারি মাপের নেতা তাঁদের বিভাগে এসে রাজা ভট্টাচার্যের খোঁজ করেন এবং তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। ওই নেতার মেয়ে কেপিসি-র পরীক্ষার্থীদের এক জন ছিলেন। একাধিক ইনভিজিলেটরের অভিযোগ— দুপুরে রথীন্দ্রনাথবাবুর সঙ্গে পরীক্ষার হলে ঢুকে সেই ছাত্রী এবং আরও কয়েক জনকে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর বলে দেন রাজাবাবু। রাজা ভট্টাচার্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করে হলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘‘আমি ব্যস্ত আছি।’’ তার পর কয়েক মিনিট থমকে বলেন, ‘‘আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’ আবার কয়েক মিনিট চুপ করে থেকে বলেন, ‘‘মিথ্যা কথা। আমি কোনও দিন পরীক্ষার হলে ঢুকিনি।’’

তা হলে কি বিভাগীয় প্রধান মিথ্যা বলছেন? কেন হঠাৎ বেছে-বেছে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলতে যাবেন? ‘‘জানি না’’ বলে ফোন কেটে দেন তিনি। আর যে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ‘এক ঘণ্টা পরে সব জানাচ্ছি’ বলে তিনি ফোন রেখে দেন। রাত পর্যন্ত আর তিনি ফোন ধরেননি।

মেডিক্যালে টুকলি নিয়ে স্বাস্থ্যভবন এবং স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দিন ধরে তোলপাড় চললেও এখনও কোনও তরফে কোনও তদন্ত কমিটি গড়া হয়নি। মেডিক্যালের অধ্যক্ষ তপন লাহিড়ি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবতোষ বিশ্বাস— সকলেরই মুখে কুলুপ। শনিবার টোকাটুকির ঘটনার প্রতিবাদে মেডিক্যালে অধ্যক্ষের ঘরে বিক্ষোভ দেখায় ডিএসও। হাসপাতাল চত্বরেও কিছুক্ষণ স্লোগান দিয়ে ঘোরে তারা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy