Advertisement
E-Paper

সদস্য কম, শিশু দেখভালে বিপাকে কমিটি

থাকার কথা পাঁচ জনের। কিন্তু আছেন মোটে তিন জন। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির এমনই হাল বর্ধমান জেলায়। যার ফলে, আশ্রয়হীন শিশুর দেখভালের ব্যবস্থা করা থেকে হোম পরিদর্শন— নানা কাজ করতে হোঁচট খাচ্ছে এই কমিটি।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৪

থাকার কথা পাঁচ জনের। কিন্তু আছেন মোটে তিন জন। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির এমনই হাল বর্ধমান জেলায়। যার ফলে, আশ্রয়হীন শিশুর দেখভালের ব্যবস্থা করা থেকে হোম পরিদর্শন— নানা কাজ করতে হোঁচট খাচ্ছে এই কমিটি। শীঘ্র সমস্যা মিটতে পারে, এমন কোনও আশ্বাস দিতে পারেনি সমাজকল্যাণ দফতর।

সরকারি আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কমবয়সীদের দেখভাল, সুরক্ষা, চিকিৎসার ব্যবস্থা, পুনর্বাসন, শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে কাজ করে এই কমিটি। বহু শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে এই কমিটির উপরে। ‘দ্য ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস’-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সারা দেশেই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি কাজ করতে গিয়ে নানা অসুবিধায় পড়ে। প্রথম শ্রেণির বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চের সমতুল ক্ষমতা এই কমিটিকে দেওয়া হলেও পুলিশ-প্রশাসন থেকে নানা পক্ষের তরফে উপযুক্ত সাড়া তারা সব সময় পায় না বলে অভিযোগ ওঠে। বর্ধমানে আবার সদস্য সংখ্যা কম থাকায় আরও মুশকিলে পড়ে এই কমিটি।

২০১১ সালে জেলায় যে কমিটি গড়া হয়েছিল তাতে পাঁচ জনই ছিলেন। চেয়ারপার্সন হন শিশু বিশেষজ্ঞ কৃপাসিন্ধু চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া ছিলেন তিন চিকিৎসক শ্রীকান্ত বসু, সত্যজিৎ দাশগুপ্ত ও শিখা সরকার আদিত্য এবং সমাজসেবী পিয়ালি কর। ২০১২ সালের অগস্টে ব্যক্তিগত কারণে পদ ছেড়ে দেন কৃপাসিন্ধুবাবু। তার পর থেকে চেয়ারম্যান ছাড়াই চলছিল চার জনের কমিটি। মেয়াদ শেষের পরে চলতি বছরের গোড়ায় নতুন কমিটির জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এক জন সর্বোচ্চ দু’বার কমিটিতে থাকতে পারেন। সেই হিসেবে পুরনো কমিটির তিন জন শিখাদেবী, সত্যজিৎবাবু এবং পিয়ালিদেবী ফের কমিটিতে থাকার জন্য আবেদন জানান।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিখাদেবী চেয়ারপার্সন হিসেবে কমিটিতে যোগ দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু রাজ্যপালের দফতরের অনুমোদন পাওয়া কমিটিতে দেখা যায়, তিন জনকেই সাধারণ সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। চেয়ারম্যান হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান দেবাশিস নাগ। কিন্তু, সাধারণ সদস্য হিসেবে কমিটিতে থাকতে চাননি শিখাদেবী। ফলে, নতুন কমিটি পাঁচ জনের জায়গায় তিন জনের হয়ে যায়। অর্থাৎ, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান জেলার ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে।

বর্তমান কমিটির সদস্যেরা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, পদ ফাঁকা থাকায় কাজ করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। জেলার বিভিন্ন হোম পরিদর্শন থেকে শুরু করে অনাথ শিশুদের দেখভালের ব্যবস্থা করা, দত্তক প্রক্রিয়ায় নজরদারি-সহ নানা কাজ করতে হয় এই কমিটিকে। কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মত ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এখানে পাঁচ সদস্যের কমিটিতে তিন জন থাকায় সিদ্ধান্ত নিতে হলে সকলকেই থাকতে হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সকলে এক সঙ্গে হাজির থাকতে পারেন না। ফলে, প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়।

জেলা সমাজকল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে কমিটির তরফে সমস্যার কথা এই দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজাকে জানানো হয়। মন্ত্রীর নির্দেশে সম্প্রতি ফাঁকা দু’টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জেলা থেকে নাম চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রকে পাঠানো হবে। এর পরে রাজ্যপালের অনুমোদন মিললে কাজে যোগ দেবেন নতুন সদস্যেরা। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস লাগতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি শীঘ্র পাল্টানোর কোনও সম্ভাবনা নেই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy