অলিম্পিক্স বা এশিয়ান গেমসের আসরে পদকের তালিকায় ভারতের নামটা যেখানে থাকে, জনস্বাস্থ্য ও যাপনের মানের তালিকায় এখন আমেরিকার জায়গাটাও প্রায় সেখানেই!
ক্ষমতার দাঁড়িপাল্লার কাঁটা যতই ঝুঁকে থাক দুনিয়ার এক নম্বর শক্তিশালী দেশের দিকে, জনস্বাস্থ্য ও যাপনের নিরিখে অনেকের চেয়েই পিছিয়ে পড়েছে ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’র দেশ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৮৮টি দেশের তালিকায় তার জায়গাটা এখন ২৮ নম্বরে। অলিম্পিক্সে পদকের তালিকায় আমেরিকার চেয়ে যতটা পিছিয়ে থাকি আমরা, এই তালিকায় ‘হিম-ঠাণ্ডা’র দুই দেশ আইসল্যান্ড আর সুইডেনও ততটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে ‘আমাকে দেখে শেখো’র দেশ আমেরিকাকে। ‘দুয়োরানি’ এশিয়ার পক্ষে সুখবর এই টুকুই, ওই তালিকায় দুই ‘টপার’ আইসল্যান্ড, সুইডেনের সঙ্গেই রয়েছে আমাদের কাছের প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরের নামও। ভারত, পাকিস্তান আর বাংলাদেশের মধ্যে যেন ‘নেক টু নেক ফাইট’! ‘এ বলে আমায় দ্যাখ তো ও বলে আমায়’! তালিকায় ভারত ১৪৩, পাকিস্তান ১৪৯ আর বাংলাদেশ রয়েছে ১৫১ নম্বরে। ইউরোপের দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে ব্রিটেন কিন্তু এই তালিকায় (৫ নম্বর) টক্কর মেরে দিয়েছে ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ফুটবলার আর অ্যাথলিটদের দেশ জার্মানিকে (১৫ নম্বর)। আর অলিম্পিক্সের আসরের মতোই এই তালিকাতেও এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভারতকে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছে জাপান (২৭ নম্বর) ও চিন (৯২ নম্বর)। জনস্বাস্থ্য আর যাপনের নিরিখে ভারতকে টপকে গিয়েচে ‘ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ’ কিউবাও (৬৬ নম্বর)।
একুশ শতকের প্রথম ১৫ বছরে জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়নের মোট ৩৩টি সূচকের মানদণ্ডে কোন দেশ কোথায় রয়েছে, তা জরিপ করতে বিশ্বজুড়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। বিশ্বের ১২৪টি দেশের দু’হাজারেরও বেশি গবেষকের ওই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘ল্যান্সেট’ জার্নালে।
শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য সব সময় বুক ফুলিয়ে চলে যে দেশ, সেই আমেরিকা শিশুর জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যুর হারের দেশের তালিকায় রয়েছে ৬৪ নম্বরে। প্রতি এক লক্ষ শিশুর জন্মের সময় আমেরিকায় এক জন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে এই একুশ শতকেও! আর পাঁচ বছর বয়সের কম শিশুর মৃত্যুর হারে ওই তালিকায় আমেরিকার নাম রয়েছে ৪০ নম্বরে!
গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ওজনের শিশু জন্মাচ্ছে। এটা যথেষ্টই উদ্বেগের।
ওই গবেষণা জানাচ্ছে, আবার জনস্বাস্থ্য বা কয়েকটি বিশেষ রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কয়েকটি ছোট দেশ এই একুশ শতকের প্রথম দেড় দশকে অনেকটাই উন্নতি করেছে। যেমন, তাজিকিস্তান। ম্যালেরিয়া প্রায় নির্মূল করে ফেলেছে তাজিকিস্তান। কলম্বিয়ার স্বাস্থ্য-বিমা প্রকল্প প্রায় গোটা বিশ্বের কাছেই ঈর্ষণীয়। তাইওয়ানে পথ নিরাপত্তা আইন সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়েছে। পথ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কমিয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে। তামাকবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে বেশি সফল আইসল্যান্ড।
আরও পড়ুন- ভিতরে শত্রু, বাইরে যুদ্ধের সাজ, মসুলে কঠিন পরিস্থিতির মুখে আইএস