Advertisement
E-Paper

তুতানখামেনের পিরামিডের রহস্য ভেদে বড়সড় অভিযান

মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনির্বায। এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল ১৯২২ সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে। খননকার্যে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টারের নেতৃত্বে যে সব কর্মী যুক্ত ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাঁদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু ঘটেছিল অস্বাভাবিক ভাবে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১৩:৫৩
প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার পর্যবেক্ষণ করছেন। ফাইল চিত্র

প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টার পর্যবেক্ষণ করছেন। ফাইল চিত্র

মিশরের অনেকেই বিশ্বাস করেন, তুতানখামেন মমিকে যারা বিরক্ত করবে, তাদের মৃত্যু অনির্বায। এই বিশ্বাসটা তৈরি হয়েছিল ১৯২২ সালে প্রথম তুতানখামেনের মমি আবিষ্কারের পর থেকে। খননকার্যে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টারের নেতৃত্বে যে সব কর্মী যুক্ত ছিলেন, ঘটনাচক্রে তাঁদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু ঘটেছিল অস্বাভাবিক ভাবে। তবে বিজ্ঞানের চোখে এ সব নেহাতই কুসংস্কার। এ বার আরও এক ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদের তত্ত্ববধানে অভিযান চলবে তুতেনখামেনের সমাধির গোপন ডেরায়।

দীর্ঘ ৩৩০০ বছর ধরে লুকিয়ে থাকা তুতানখামেনের সমাধির ভিতর লুকিয়ে থাকা চেম্বারের রহস্য ভেদ করতে তাঁদের এই অভিযান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেস। কী থাকতে পারে এই চেম্বারে? তুতানখামেনের সমাধি নিয়ে এত দিন ধরে নিকোলাস যে গবেষণা চালিয়েছেন, সেখানে সমাধির একটি গুপ্তপথের সূত্র খুঁজে পেয়েছেন তিনি। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ৯০ শতাংশ নিশ্চিত, এবারে নতুন কিছু তথ্য হাতে পাবেনই। নিকোলাসের অনুমান তুতেনখামেনের সমাধিতে আরও দুটি গোপন কক্ষ রয়েছে। যার মধ্যে একটি হতে পারে রানি নেফাতিতির সমাধি।

নতুন অনুসন্ধানে কী মিলতে পারে?

তুতানখামেন সমাধির রহস্য ভেদ করতে সাহায্য করবে ইতালির তুরিনের একটি পলিটেকনিক ইউনিভারসিটি। এবং এর সঙ্গে থাকবে দু’বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া অনুসন্ধানকারীর দলও।

তুতানখামেনের মমি। ছবি- এএফপি

তুরিনের পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর ফ্রাঙ্কো পরসেলি জানাচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই গবেষণা চালানো হবে। তাঁর আরও দাবি, গবেষণায় তিনটি র‌্যাডার সিস্টেম ব্যবহার করা হবে, যেগুলির ২০০ মেগা হার্টজ থেকে ২ গিগা হার্টজ পর্যন্ত তরঙ্গায়িত হওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এমন কী মাটির তলায় ৩২ ফুট গভীর পর্যন্ত স্ক্যান করতে পারবে এই যন্ত্রগুলি। মিশরের প্রাক্তন পুরাতত্ত্ব মন্ত্রী মামদৌহ এলদামাতি বলেন, “এই শতাব্দীর সবচেয়ে ‘বড় আবিষ্কার’ হতে চলেছে তাঁদের এই গবেষণা।”

কণিষ্ঠতম ফ্যারাও ছিলেন তুতানখামেন। ছবি-এএফপি

তুতানখামেন ছিলেন মিশর সম্রাজ্যের কণিষ্ঠতম ফ্যারাও। খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৩২ থেকে ১৩২৩ সাল পর্যন্ত তাঁর রাজত্বকাল ছিল। তিনি কী ভাবে মারা গিয়েছিলেন এ নিয়ে বিভিন্ন প্রত্নতত্ত্ববিদের নানা মত রয়েছে। কেউ মনে করেন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছিলেন। কেউ বা বলেন ম্যালেরিয়াতে তিনি মারা যান। আবার প্রত্নতত্ত্ববিদদের একাংশ বিশ্বাস করেন, ভারী কিছুতে চাপা পড়ে মারা গিয়েছিলেন এই ফ্যারাও।

জাপানি বিশেষজ্ঞ হিরোকাটসু স্ক্যান করে দেখছেন ২০১৫ সালে। ছবি- এএফপি

তুতানখামেনের মৃত্যু ঘিরে নানা ধোঁয়াশা তৈরি হলেও মমি আবিষ্কারের পর তাঁকে নিয়ে আম জনতার মনে কৌতূহল বেড়েছে আরও। কারণ, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হোয়ার্ড কার্টারের নেতৃত্ব তুতানখামেনের যখন মমি আবিষ্কারের সময় তাঁর সমাধি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল। মিশরের বেশির ভাগ পিরামিডে থাকা মূল্যবাণ সম্পত্তি লুঠ হয়ে গেলেও তুতেনখামেনের সমাধিতে পাওয়া গিয়েছিল বিপুল সম্পত্তি। নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি। মিশর সভ্যতার ইতিহাসে নয়া মোড় ঘুরে যায় তুতানখামেনের মমি আবষ্কারের পর।

এবারও সেই রকমই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ নিকোলাস রিভেসের। রানি নেফাতিতির সমাধির খোঁজ মিলতে পারে বলে দাবি তাঁর। খ্রিস্টপূর্ব ১৩৫১ থেকে ১৩৩৪ সাল পর্যন্ত নেফাতিতি মিশরে রাজ করেছিলেন।

তুতানখামেনের মুখোশ নিয়ে গবেষণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি- এএফপি

তবে নিল নদের বাসিন্দাদের অনেকের মনে চিন্তা এখন একটাই। যাঁরা বিশ্বাস করেন এই সমাধিতে ঢোকার চেষ্টা করার ফল কখনও ভাল হয়না, তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তুতানখামেনের সমাধিতে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে ফের ১৯২২ সালের মতো কোনও বিভিষীকা ফিরে আসবে না তো! নতুন করে অভিশাপের ছায়া পড়বে না তো মিশরবাসীদের উপর! বিজ্ঞানমনস্ক চোখ এ সব উড়িয়ে দিলেও, বিশ্বাসকে কি অত সহজে টলানো যায়!

আরও পড়ুন- চোখ, মুখ দিয়ে নাগাড়ে বের হয় রক্ত, কারণ খুঁজতে দিশাহীন চিকিত্সা বিজ্ঞান

Tutankhamun Nefertiti Egypt Mummy
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy