×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর পরেও থেকে যায় মায়া, তেমনই কিছু আশ্চর্য কবর

নিজস্ব প্রতিবেদন
১০ অক্টোবর ২০২০ ১৭:১৬
কবরস্থানের কথা বললে গা ছমছমে একটা ব্যাপার এসেই যায়। প্রিয়জনের স্মৃতিকে অক্ষুণ্ন রাখতে অনেকেই কবরের উপর পাথর দিয়ে নানা রকম নকশা করে থাকেন। অথবা নির্মিত হয় সমাধি-স্থাপত্য। এখানে আমরা দেখব এমন কিছু কবর, যা গতানুগতিক কবরের থেকে অনেকটাই আলাদা। ওই সব কবরের উপর নকশা বা স্থাপত্য সত্যিই বৈচিত্রময়, এই সব নকশা বা স্থাপত্য যেন মৃত্যুর পরেও থেকে যাওয়া কিছু মায়ার কথা বলে চলেছে জীবিত পৃথিবীকে।

মিকি মাউস প্রেমীর কবর। একটি কিশোরীর কবর এটি। ওই কিশোরী মিকি মাউসের ভক্ত ছিল। সে জন্যই তার পরিজনেরা কবরের উপরে বসিয়েছেন কিশোরীর প্রতিকৃতি। সেখানে জ্বলজ্বল করছে মিকি মাউসের ছবি।
Advertisement
‘পিয়ানো কবর’। এই কবরের উপরে রাখা একটি পাথরের পিয়ানো। তার উপর মাথা রেখে আধ শোয়া অবস্থায় রয়েছে এক নারী। এটি যাঁর কবর, তিনি পিয়ানো বাদক ছিলেন। সেই স্মৃতিতেই এই স্থাপত্য।

ইটালিতে থাকা এই কবর যাঁর, তিনি নিশ্চয় ধূমপানের কারণে মারা গিয়েছিলেন।
Advertisement
এই কবরের উপরে রয়েছে ঢাকনা। যা সরিয়ে ভিতরে ঢোকা যায়। কবরটি একটি ১০ বছরের মেয়ের। মেয়েটি ঝড় হলে খুব ভয় পেত। তাই ঝড় হলেই তাঁর মা ওই ঢাকনা সরিয়ে কবরের ভিতর গিয়ে এখনও মেয়েকে আগলে রাখেন।

সমাধি স্থাপত্যের অন্যতম সুন্দর নিদর্শন এই কবর। তাইল্যান্ডের এই কবর স্ত্রীয়ের প্রতি স্বামীর অন্তহীন ভালবাসার উদাহরণ।

এটি একটি বাচ্চা মেয়ের কবর। মৃত্যুর পর জিশু তাকে দোল খাওয়াচ্ছেন— এরকমই ভাবনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কবরের উপর।

এই কবর ভিক্টোরীয় যুগের। মৃত ব্যক্তি কবর থেকে উঠে যাতে না পালাতে পারে, সে জন্যই কবরের উপর এ রকম লোহার খাঁচা।

এটি দেখে মনে হচ্ছে মৃত ব্যক্তি যেন নিজেই কবরে যাচ্ছেন। জর্জেস রোডেনবাখ নামে এক ব্যক্তির কবর এটি। ১৮৯৮-এ মৃত্যু হয় তাঁর।

এই কবর স্বামী-স্ত্রীর। স্বামী ছিলেন ক্যাথলিক ও স্ত্রী ছিলেন প্রোটেস্ট্যান্ট। সে সময় ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্টদের কবর পাশাপাশি দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তাই দুই কবরের মধ্যে দেওয়াল থাকলেও তার উপর দিয়েই রয়েছে যোগসূত্র।

সেলফোন কবর। কবরের উপর পুরনো দিনের মোবাইল ফোনের প্রতিকৃতি। মৃত ব্যক্তির মোবাইল ফোনের প্রতি ভালবাসা থেকেই এমন নির্মাণ।

এই কবরটি আমেরিকার ইন্ডিয়ানার এক গ্রামীণ এলাকার। কর্তৃপক্ষের অনুরোধ সত্ত্বেও নাতির কবর সরাতে রাজি হননি ঠাকুমা। সে জন্য কবরকে মাঝখানে রেখেই দু’পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে রাস্তা।

কবরের উপর হাত ধরাধরি করে বসে আছে কঙ্কাল। প্রিয়জনের প্রতি ভালবাসা ব্যক্ত করতেই এই প্রতিকৃতি।

কবরের উপর ক্রসওয়ার্ড। মৃত ব্যক্তির ক্রসওয়ার্ডের প্রতি ভালবাসা বোঝাতেই এ ভাবে সাজানো হয়েছে কবরটি।

এক ফরাসি সাংবাদিকের কবর। সদা জাগ্রত সাংবাদিক যেন শুয়েও জেগে রয়েছেন।