দুই বিয়ে, একটি লিভ ইন ছাড়াও একাধিক সম্পর্ক, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জীবন যেন রামধনু
সাংবাদিক থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া বরিসের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই রঙিন। আদতে তাঁর সম্পর্ক এবং সন্তানের আসল সংখ্যা অজানা বলে রসিকতা করেন অনেকেই।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ঘোষণার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন চিকিৎসকেরা। কোভিড সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘অস্বীকার করব না, সেটা খুবই কঠিন সময় ছিল। যাঁরা আমার চিকিৎসা করছিলেন, তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, আমাকে আর বাঁচানো যাবে না। তৈরি হয়েছিলেন আমার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণার জন্য। স্তালিনের (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্তালিন) মৃত্যুর সময় যেমনটা হয়েছিল, প্রায় তেমনই।’’
রোগমুক্তিতে নতুন জীবন-ই শুধু নয়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নতুন জীবনে এখন নতুন অতিথিও। গত ২৯ এপ্রিল লন্ডনের এক হাসপাতালে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন তাঁর প্রেমিকা তথা বাগদত্তা ক্যারি সাইমন্ডস।
সাংবাদিক থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া বরিসের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই রঙিন। আরও পাঁচ জন সন্তানের বাবা তিনি। যদিও আদতে তাঁর সম্পর্ক এবং সন্তানের আসল সংখ্যা অজানা বলে রসিকতা করেন অনেকেই।
গত বছর জুলাই মাসে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বরিস। তার কয়েক মাস পরে। চলতি বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বরিসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন:
বরিসের প্রথম স্ত্রী ছিলেন অ্যালেগ্রা মোস্টাইন আওয়েন। শিল্প-ঐতিহাসিক উইলিয়াম মোস্টাইন আওয়েন এবং ইতালীয় সাহিত্যিক গাইয়া সার্বাদিয়োর মেয়ে অ্যালেগ্রাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন ১৯৮৭ সালে। ১৯৯৩ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
প্রথম বিয়ে ভাঙার ১২ দিনের মাথায় আবার বিয়ে করেন বরিস। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ম্যারিনা হুইলার ছিলেন পেশায় এক জন আইনজীবী। ম্যারিনার বাবা চার্লস হুইলার ছিলেন সাংবাদিক এবং মা দীপ সিংহ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। বিয়ের পাঁচ মাস পরে জন্ম হয় বরিস-ম্যারিনার প্রথম সন্তানের।
হুইলার ও জনসন পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই পরাবিরাকি বন্ধু। এমনকি বরিস ও ম্যারিনা একই সময়ে পড়তেন ব্রাসেলসের ইউরোপীয় স্কুলে। তাঁদের চার সম্তান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে।
২০১৮-র সেপ্টেম্বরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেড় বছর পরে ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। ২০১৯ থেকেই ক্যারি সাইমন্ডসের সঙ্গে লিভ ইন শুরু করেন বরিস জনসন। দু’জনের বয়সের ব্যবধান ২৪ বছর।
আরও পড়ুন:
ক্যারির বাবা ম্যাথিউ সাইমন্ডস ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ সংবাদপত্রের সহ-প্রতিষ্ঠাতা। মা আইনজীবী।
কনজারভেটিভ পার্টির কর্মী হিসেবে বরিসের সঙ্গে সম্পর্ক হয় ক্যারির। পরে তিনি দলের প্রেস অফিসার হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। বরিস জনসনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরে তিনি এই দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
ক্যারি সাইমন্ডস-ই প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অবিবাহিত বাগদত্তা হিসেবে দশ ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস করছেন। দু’জনে রোমান ক্যাথলিক মতে বিয়ে করবেন বলে জানা গিয়েছে।
এই তিন জনের বাইরেও বরিস জনসনের বেশ কিছু সম্পর্ক আছে। ২০০০ থেকে ২০০৪ অবধি বরিসের সঙ্গে স্পেক্টেটর পত্রিকার কলামনিস্ট পেত্রোনেল্লা ওয়াটের সম্পর্ক ছিল। সে সময় বরিস ওই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
শোনা যায়, পেত্রোনেলল্লার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে বরিসের সম্পর্ক ছিল ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার সাংবাদিক অ্যানা ফ্যাজাকার্লির সঙ্গে। তবে তাঁরা কেউ এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন না।
২০০৯ সালে আবার ভেসে ওঠে বরিসের নতুন সম্পর্কের কথা। শোনা যায়, শিল্প সমালোচক হেলেন ম্যাকলিনটায়ারের মেয়ের বাবা তিনি-ই।
যদিও বরিস নিজে কোনওদিন তাঁর সন্তানসংখ্যা কোনওদিন প্রকাশ করেননি। এমনকি, এই নিয়ে বিতর্ক গড়ায় আদালত অবধি। তবে আদালত রায় দেয়, বরিসের বাঁধনহীন জীবন নিয়ে জানার অধিকার আছে সাধারণ মানুষেরও।
ক্যারি জানিয়েছেন, ‘‘হাসপাতালে বরিসকে বাঁচিয়ে রাখতে তিন দিনে অনেক অনেক লিটার অক্সিজেন দিতে হয়েছিল চিকিৎসকদের।’’ ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিসের যে চিকিৎসকেরা টানা তিন দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা করেছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বরিস ও তাঁর প্রেমিকা ক্যারি।
যে দুই চিকিৎসকের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া বরিসের ফিরে আসা সম্ভব ছিল না, তাঁদের নাম জোড়া লাগিয়েই সদ্যোজাতের নামকরণও করেছেন বরিস ও ক্যারি। সদ্যোজাতের নাম দেওয়া হয়েছে, উইলফ্রেড লরি নিকোলাস জনসন।