ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে কী সেই সাহায্য, তা নিয়ে পরিষ্কার কিছু জানাননি।
মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন। এও বলেন, তাঁদের সাহায্য করবেন। পাশাপাশি, ইরান সরকারের সঙ্গে সব আলোচনা বাতিল করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, যত ক্ষণ না বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হচ্ছে, তত ক্ষণ সব আলোচনা বন্ধ থাকবে।
আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরান থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজনও করছিলেন তিনি। তবে এই পরিস্থিতিতে সব বৈঠক ও আলোচনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়েছে! বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবাও।
খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন। বিক্ষোভ দমন করতে যে পদক্ষেপ করছে তেহরান, তাতেও অসন্তুষ্ট আমেরিকা। এরই মধ্যে রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কী ভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়, কী কী কঠোর পদক্ষেপ করা যায়, মার্কিন বাহিনীর সামনে কী বিকল্প রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে আমেরিকায়। সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল না। তার মাঝেই সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে যারা বাণিজ্য করবে তাদের উপরে শুল্ক চাপাবে আমেরিকা।
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত। ওই দিন তেহরানের দোকানিরা প্রথম মুদ্রাস্ফীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ক্রমে দেশের অন্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে সেই বিক্ষোভের আঁচ। মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমে দেশের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলনের রূপ নেয়। খামেনেইয়ের অপসারণ চেয়ে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর হয় প্রশাসনও। বিক্ষোভকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হতে থাকে। প্রায় ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এখনও উত্তাল পশ্চিম এশিয়ার দেশ।