Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

শীঘ্রই পাতে পড়তে চলেছে এই নকল মাংস, দামও নাগালের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদন
০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ১৭:৪২
পেটপুজোর জন্য প্রাণীহত্যা কি এ বার বন্ধ হওয়ার পথে? সৌজন্যে আমেরিকার এক সংস্থা। গবেষণাগারে কৃত্রিম মাংস তৈরি করে ফেলেছে তারা, যা সিঙ্গাপুরের একাধিক রেস্তরাঁর মেনুতে ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব জুড়ে এই কৃত্রিম মাংসের চাহিদা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃত্রিম মাংস তৈরির ভাবনা আমেরিকার স্টার্ট আপ সংস্থা ‘ইট জাস্ট’-এর মস্তিষ্কপ্রসূত। মুরগির শরীর থেকে কোষ সংগ্রহ করে আপাতত কৃত্রিম মুরগির মাংসই তৈরি করেছে তারা। তাদের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখে সম্প্রতি সেই কৃত্রিম মাংসে ছাড়পত্র দিয়েছে সিঙ্গাপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
Advertisement
সংস্থার সিইও জশ টেট্রিকের মতে, বিশ্ব খাদ্য বাজারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে এই কৃত্রিম মাংস। এতে পরিবেশ রক্ষাও হবে। বন্ধ হবে প্রাণী হত্যাও। সিঙ্গাপুরে আপাতত তাঁদের তৈরি কৃত্রিম মাংস ছাড়পত্র পেয়েছে। আগামী দিনে বিশ্বের সর্বত্র এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মাংস সমাদর পাবে বলে আশা তাঁর।

সংস্থার সিইও জশ টেট্রিকের মতে, বিশ্ব খাদ্য বাজারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে এই কৃত্রিম মাংস। এতে পরিবেশ রক্ষাও হবে। বন্ধ হবে প্রাণী হত্যাও। সিঙ্গাপুরে আপাতত তাঁদের তৈরি কৃত্রিম মাংস ছাড়পত্র পেয়েছে। আগামী দিনে বিশ্বের সর্বত্র এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মাংস সমাদর পাবে বলে আশা তাঁর।
Advertisement
মাংসের জোগান বাড়াতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বলে বহু দিন ধরেই সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, মাংসের চাহিদা মেটাতে আলাদা করে পশুপালনও হচ্ছে। তাদের বর্জ্য থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস মিথেন আরও বাড়ছে। গাছ কেটে পশুচারণের ব্যবস্থা করতে গিয়ে জঙ্গল সাফ হয়ে যাচ্ছে।

তাই তাদের তৈরি মাংস গোটা বিশ্বকে পথ দেখাবে বলে মনে করছে ‘ইট জাস্ট’। আপাতত কৃত্রিম উপায়ে শুধু মাত্র মুরগির মাংস তৈরি করলেও আগামী দিনে কৃত্রিম উপায়ে গোমাংস থেকে অন্য সব ধরনের মাংস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

কৃত্রিম মাংস দিয়ে তৈরি নাগেটসের দাম ঠিক কত রাখা হচ্ছে, তা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তবে বাজারে মুরগির মাংসের যা দাম, তার চেয়ে বেশি দাম হবে না বলেই জানা গিয়েছে। এমনকি আগামী কয়েক বছরে মুরগির মাংসের চেয়ে তার দাম আরও কম রাখা হতে পারে বলেও খবর মিলেছে।

কৃত্রিম মাংস তৈরি করতে ১২০০ লিটার বায়োরিয়্যাক্টরসে প্রায় ২০ দফার পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়। মানবশরীরের পক্ষে তা কতটা নিরাপদ, মাংসের গুণমানই বা কেমন, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে গোটা পৃথিবীতে মাংসের ভক্ষণ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে বলে অনুমান। সে ক্ষেত্রে এই কৃত্রিম মাংস সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

কৃত্রিম উপায়ে তৈরি মাংসে কোনওরকম বিপদের ইঙ্গিত মেলেনি। সব পরীক্ষা করে দেখেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিঙ্গাপুর ফুট এজেন্সি’।

তবে এই প্রথম নয়, ‘সাস্টেনেবল ফুড’ তৈরিতে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে সিঙ্গাপুর। বিশেষ করে এশীয় নাগরিকদের কথা মাথায় রেখে গবেষণাগারে তৈরি নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাংশ, শূকরের মাংসের পরিবর্তে নানা ধরনের ক্রান্তীয় ফল থেকে তৈরি ডাম্পলিং তৈরি করে নজর কেড়েছে তারা।

তবে মাংসের বিকল্প হিসেবে বাজারে ইতিমধ্যেই ‘প্লান্ট বেসড মিট’ এসে গিয়েছে, যা মূলত সয়া গাছের শিকড় থেকে তৈরি হয়। তাতে রং আনতে ব্যবহার করা হয় বিট। এ ছাড়াও নানা ধরনের প্রোটিন উপাদান ব্যবহার করা হয়।

বহু জায়গায় বার্গার, প্যাটিসে এই ‘প্লান্ট বেস্ট মিট’ ব্যবহার করা হয়। বলিউড দম্পতি রিতেশ দেশমুখ এবং জেনেলিয়া সম্প্রতি ভারতে ‘প্লান্ট বেস্ট মিট’ তৈরির সংস্থা স্থাপনের ঘোষণা করেছে। কাবাব, বিরিয়ানি, ঝোল, সবেতেই তাঁদের তৈরি ‘প্লান্ট বেসড’ মিট ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

‘গুড ডট’, ‘ভেজলে’-র মতো বিকল্প এবং ‘নিরামিষ মাংস’-এর ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই ভারতের বাজারে রয়েছে। শুধু তাই নয়, গুডমিল্কের মতো ‘প্লান্ট বেসড ডেয়ারি প্রডাক্টস’ও পাওয়া যায় ভারতে। তারা বিকল্প দই, চিজ এবং দুধ তৈরি করে।