Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

গ্যাংস্টারদের ‘তারকা’, ৯০ বছর পরও কোটি কোটি টাকায় বিকোচ্ছে তাঁর ব্যবহৃত জিনিস!

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১৭ অক্টোবর ২০২১ ১৪:৪৮
‘কোল্ট ০.৩২’। এই রিভলভারের সঙ্গে বাঙালির পরিচয় ফেলুদার সূত্র ধরে। কিন্তু বাস্তবে একটা সাধারণ ‘কোল্ট .৪৫’ আগ্নেয়াস্ত্রের দাম যদি হয় কয়েক কোটি টাকা, অবাক হবেন? তা-ও আবার সেই আগ্নেয়াস্ত্রটি বহু ব্যবহারে জীর্ণ। সুঠাম ইস্পাতের তৈরি আগ্নেয়াস্ত্রের জায়গায় জায়গায় পাল্টা আঘাতের চিহ্ন। কোথাও ক্ষয়ে গিয়েছে কোথাও বা রয়ে গিয়েছে ঘসে যাওয়া দাগ। হাতলের কাঠের পালিশও রংচটা। আগ্নেয়াস্ত্রটি সম্প্রতি ১০ লক্ষ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকায় নিলামে কেনা হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্রটির বয়স ১০০ বছরের আশপাশে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র তো আর আঙুরের জারিত রস নয়, যে বয়স যত বাড়বে দামও বাড়বে তত! ‘কোল্ট.৪৫’ আগ্নেয়াস্ত্রটির রেকর্ড দামের কারণ, তার পুরনো মালিক। আল কাপোন।
Advertisement
আল কাপোনের খ্যাতি বা বলা ভাল কুখ্যাতি এই যে তিনি বিশ্বের ভয়ঙ্করতম গ্যাংস্টারদের অন্যতম। তিনি ছিলেন ধনকুবের। স্রেফ তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা না করায় একসঙ্গে শতাধিক মানুষকে খুন করেছেন। আবার কোটি ডলারের সম্পত্তির প্রতিটি পাই আনা বিলাসিতা, উপভোগ, সম্ভোগে ব্যয় করেছেন।

ভাল সিগার, ঝকঝকে স্যুট, কেতাদুরস্ত খাবার দাবার আর সুন্দরী নারীসঙ্গ— কাপোন ভাল থাকার কোনও উপায়কেই ব্রাত্য করে রাখেননি। বিলাসপ্রেমী কাপোন একটি প্রাসাদোপম বাড়িও কিনেছিলেন ফ্লোরিডার ছবির মতো সাজানো সৈকত মায়ামিতে।  সেই বাড়িও সম্প্রতি ১ কোটি ১৪ লক্ষ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে।
Advertisement
তবে জীবনের শেষ ১১টা বছর তাঁকে কাটাতে হয় দ্বীপান্তরে। আলকাটারেজের কারাগারে। এক কামরার ছোট্ট একটা সেলে। যেখানে ঘুমনোর জায়গার পাশেই শৌচের স্থানও। পেট ভরানোর জন্য শুধুই জেলের খাবার।

১৭ বছর বয়স থেকেই অপরাধ জগতে হাতেখড়ি কাপোনের। তবে তার আগে মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হন। বুদ্ধিমান ছাত্র কাপোন এক মহিলা শিক্ষিকার মুখে সজোর ঘুষি মেরেছিলেন।

এর বছর খানেক পরেই স্থানীয় গুন্ডা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে কাপোনের। সেই শুরু। ঠিক ন’বছরের মাথায় শিকাগোর সবচেয়ে কুখ্যাত গ্যাং-এর মাথা হয়ে যান কাপোন। তত দিনে তিনি একটি বেশ্যালয়ের রক্ষী হিসেবে কাজ করছেন, বেআইনি মদ বিক্রির চক্র ফেঁদে বসেছেন, মাদক পাচারে জড়িয়েছে তাঁর নাম। শিকাগোর গ্যাংস্টার সাম্রাজ্যের ভিত্তি ছিল ওই মাদক চক্র।

একটা সময় এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন কাপোন যে রাজনীতিবিদ থেকে পুলিশকর্তা, এমনকি তারকারাও তাঁর কথায় ওঠাবসা শুরু করেন।

কথায় কথায় গুলি চালানো, শত্রুর চিহ্ন না রাখতে চাওয়া গ্যাংস্টারকে কেউ চটাতে চাইতেন না। কাপোনও সেই ‘ভয়’ আর ‘ভক্তি’ উপভোগ করতেন।

শোনা যায়, ১৯২৯ সালে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স হত্যালীলার জন্য দায়ী ছিলেন কাপোনই। প্রতিপক্ষ গ্যাং-এর সাত জন সদস্যকে নৃশংস ভাবে গুলি করে খুন করা হয়েছিল। পুলিশ-রাজনীতিবিদদের হাতের মুঠোয় রাখায় কাপোনের উপর হত্যার দায় পড়েনি।

তবে খুনের দায়ে না পড়লেও কর ফাঁকির দায়ে পড়েন কাপোন। খুন, রাহাজানি, তোলাবাজি, সংঘর্ষ, নারীপাচার, বেআইনি মদের এবং মাদকের কারবার— কোনও অপরাধই বাদ দেননি। কিন্তু সেই কাপোন অপরাধী প্রমাণিত হন কর ফাঁকি দিয়ে। তাঁকে দ্বীপান্তরে আলকাটারেজের কারাগারে পাঠানো হয়।

তত দিনে নিয়মিত কোকেন নিয়ে অসুস্থ কাপোন। জেলে তাঁর দিন কাটত একটি ব্যাঞ্জো বাজিয়ে।

১৯৩৯ সালে সিফিলিসে আক্রান্ত হন কাপোন। অসুস্থ গ্যাংস্টারকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আট বছর পর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মায়ামির বাড়িতে মারা যান এক সময়ের ভয়ঙ্কর গ্যাংস্টার।

কাপোনের বিপুল আর্থিক সম্পদ নিয়ে নানা কাহিনি চালু ছিল। তবে সেই বিপুল সম্পদ তিনি কোথায় রেখেছেন, তা একমাত্র তিনিই জানতেন।

তবে কাপোনের ‘সম্পদ’ যে তার নামেও তার প্রমাণ পাওয়া গেল ওই নিলামে। যেখানে তাঁর একটি পুরনো পিস্তল নিলামকারীদের থেকে ১০ লক্ষ ডলার দিয়ে কিনে নেন সংগ্রাহকরা।