জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনের কারণে আপাতত ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার রাজধানী ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
তৌহিদের দাবি, অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের সময় অনেক রকমের চেষ্টা হতে পারে। হুট করে যেন কেউ হাজির হতে না পারে, সে জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।’’ পাশাপাশি, পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার ও কারচুপির আশঙ্কা সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘বিষয়টি আমরা দেখেছি। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ পোস্টাল ব্যালটের অপব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’’ অন্য দিকে, বুধবারই ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে ভোটের সময় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক লক্ষ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেনা, আধাসেনা, পুলিশ, আনসার-সহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে স্থির হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের চার দিন টানা সারা দেশে ‘নিবিড় টহল’ চালাবে যৌথবাহিনী। ভোট পরবর্তী দু’দিন ধরেও বজায় থাকবে সেই প্রক্রিয়া। ১ লক্ষ সেনা-সহ মোট ন’লক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে এ বারের ভোটে! ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটকেন্দ্র থাকছে ৪২৭৬১টি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র’ ৮৭৮০টি। ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ১৬৫৪৮টিকে। ‘সাধারণ ভোটকেন্দ্র’ ১৭৪৩৩টি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন একই সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও। গত ১২ ডিসেম্বর থেকেই মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। চলেছে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে ২১ জানুয়ারি। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।