E-Paper

তালা পড়া আবাসনে এ বার নিজস্ব বুথ, স্বস্তিতে ভোটারেরা

লেক টাউন বরাবরই ভোটের সময়ে স্পর্শকাতর। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে নিউ টাউন উপনগরীও ভোটের দিনেথমথমে থাকে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শহর নিউ টাউনকেও জ্যাংড়া-হাতিয়াড়া (২) পঞ্চায়েতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৬:১৫

—প্রতীকী চিত্র।

এই প্রথম বার ভোটের দিন বড় বড় আবাসনে ভোটার সংখ্যার নিরিখে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি বোধ করছেন আবাসনের বাসিন্দারা। বিশেষত, লেক টাউন ও নিউ টাউনে, যেখানে অতীতে ভোটের দিনে কোথাও আবাসনের গেটে তালা পড়েছে, কোথাও ভোট দিতে বেরিয়েও বুথে পৌঁছতে পারেননি আবাসনের বাসিন্দারা।

লেক টাউন বরাবরই ভোটের সময়ে স্পর্শকাতর। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে নিউ টাউন উপনগরীও ভোটের দিনেথমথমে থাকে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শহর নিউ টাউনকেও জ্যাংড়া-হাতিয়াড়া (২) পঞ্চায়েতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে, সেই প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনেই ভোট গ্রহণের দিন সকালে নিউ টাউন দখল করতে নেমে পড়েদুষ্কৃতীরা। পুলিশের গার্ডরেল ফেলে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। প্রবীণ নাগরিকদের গালে চড় মেরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

নিউ টাউনের ইস্টার্ন হাইট আবাসনের বাসিন্দা অতুলচন্দ্র বলের কথায়, ‘‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা হয়েছিল সে বার। আব্দুল কালামকলেজের কাছাকাছি পৌঁছে দেখলাম, গার্ডরেল দিয়ে চার দিক ঘেরা। অচেনা যুবকদের ভিড়। তারা আমাদের দেখে গালাগালি দিতে শুরু করল। তাই আর পঞ্চায়েত ভোট দেওয়া হয়নি।’’ ইস্টার্ন হাইটে অবশ্য বুথ হচ্ছে না। তাই এ বার ভোটের দিন কী পরিস্থিতি থাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত বাসিন্দারা।

আবার নিউ টাউনের ইউনি ওয়ার্ল্ড আবাসনের বাসিন্দারা বেশ স্বস্তিতে। কারণ, সেখানে এ বার বুথ হবে। নিউ টাউনের এই আবাসন ছাড়াও রোজ় ডেল এবং সাপুরজি— এই তিন আবাসনে চারটি বুথ হবে। ওই সব আবাসনের প্রায় দু’হাজার বাসিন্দা ভোট দেবেন তাঁদের বুথে। ইউনি ওয়ার্ল্ডের বাসিন্দারা জানান, তাঁদের ভোট কেন্দ্র ছিল কারিগরি ভবন। এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘আমাদের আবাসন থেকে একটি রাস্তা গিয়েছে, যেটি দিয়ে গেলে কারিগরি ভবন কাছে পড়ে। পঞ্চায়েত ভোটের সকালে ওই রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। আর গাড়ি চলাচলের রাস্তা দিয়ে ভোট দিতে যাওয়ার উপায় ছিল না। ফলে, আবাসিকদের সিংহভাগই আর ভোট দিতে যাননি।’’ আবাসনের বাসিন্দা সায়নী সেনগুপ্তের কথায়, ‘‘আমরা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে স্বস্তি বোধ করছি। আন্তরিক ভাবে চেয়েছিলাম, যাতে আবাসনে বুথ হয়। প্রচুর বয়স্ক মানুষও উপকৃত হবেন।’’

বুথ হবে জেনে নিউ টাউনের রোজ় ডেল আবাসনের বাসিন্দারাও খুশি। তাঁরা জানাচ্ছেন, আবাসনের বুথের অসুবিধা নিয়ে দিনকয়েক ধরেই স্থানীয় কোনওকোনও গ্রুপ থেকে সমাজমাধ্যমে অন্য রকম প্রচার চালানো হচ্ছে। সেখানে অন্য ভাবে ভোটারদের অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘সমাজমাধ্যমে প্রচারে বলা হচ্ছে, আবাসনে ভোট হলে শান্তি বিঘ্নিত হবে। বাইরের লোকজন আবাসনে ঢুকে পড়বে। আমাদের আশা, প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেবে।’’

লেক টাউনের যশোর রোড এলাকায় রয়েছে দু’টি বড় আবাসন, অবনী অক্সফোর্ড এবং তুলসীরাম কমপ্লেক্স। সেগুলির বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের অনেকেরই ভোটের দিন হেনস্থা হওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের দিন সকালে তাঁদের আবাসনের ভিতরে আটকে দেওয়া হয়। লেক টাউন থানার অধীন ওই দুই আবাসন ছাড়াও ব্রিজধাম, শ্যামলেক গার্ডেন্স এবং উজাস নামে একটি আবাসনে বুথ হবে। পাঁচটি আবাসন মিলিয়ে ছ’টি বুথ হবে বলেই প্রশাসন সূত্রের খবর। বাম আমলে এক বার অবাঙালি-অধ্যুষিত আবাসন ব্রিজধামের গেটে ভোটের সময়ে তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই আবাসনের ভোটারেরা বাম-বিরোধী বলেই পরিচিত ছিলেন। যে কারণে দমদমের এক দাপুটে বাম নেতা প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়ে ওই আবাসনের বাসিন্দাদের ভোটের সকালে বেরোতে নিষেধ করেছিলেন। তার পরে সকালে আবাসনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। লেক টাউনের একাধিক এই ধরনের আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি ভোটেই তাঁদের কাছে পরিষেবা বন্ধের হুমকি আসে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election 2026 Poll Booth Election Commission of India

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy