ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে যে করেই হোক আমেরিকা জয়ী হবে। সেনাবাহিনীর সাহায্য নিয়ে কিংবা কূটনীতির মাধ্যমে, আমেরিকাকে জয়ী করতে বদ্ধপরিকর ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। ইরানও পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করে। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত। দুই দেশের মধ্যে খাতায়কলমে চুক্তি এবং সমঝোতার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পরস্পরের সব প্রস্তাব মানতে পারছে না আমেরিকা এবং ইরান। সাংবাদিকদের এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘‘যে করেই হোক, আমরা জিতছি। হয় সেনাবাহিনীর সাহায্যে, নয় খাতায়কলমে।’’ খাতায়কলমে জেতা বলতে ট্রাম্প আসলে চুক্তির কথাই বলেছেন। আমেরিকার দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদানের ভান্ডার সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। এই শর্তে রাজি না-হলে কোনও সমঝোতা চুক্তি হবে না। সব মার্কিনি শর্ত এখনও মেনে নেয়নি তেহরান।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এখন সংঘর্ষবিরতি চলছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় যদি মার্কিন সৈন্যদের খুন করা হয়, তবে ফের আমেরিকা সেনা অভিযান শুরু করবে। ফের হামলা চালানো হবে ইরানে। মোজতবার সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ‘‘আমি আসলে দেখা করতে চাই না। তবে যদি দেখা হয়, আমি সম্মানিত বোধ করব।’’ এর পরেই ট্রাম্পের সংযোজন, ‘‘আমরা যদি চুক্তি সম্পন্ন করি, ওঁর সঙ্গে আমার দেখা হওয়া সম্ভব। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই।’’
আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন তাঁর পুত্র মোজতবা। তবে এখনও তাঁকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি। এমনকি, তিনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। সূত্রের দাবি, যে মার্কিন হামলায় বাবার মৃত্যু হয়েছে, সেই হামলাতেই গুরুতর জখম হন মোজতবা। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন। তবে আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতার যাবতীয় আলোচনায় প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি থাকছেন বলে কিছু কিছু রিপোর্টে দাবি। অন্য দিকে, ইরানে আমেরিকার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাশ হয়ে গিয়েছে। অবিলম্বে ট্রাম্পকে পশ্চিম এশিয়া থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আইনসভা। যদিও উচ্চকক্ষে এখনও ওই প্রস্তাব পাশ হয়নি।