ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। এমনটাই দাবি করলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং সে দেশের শীর্ষ সেনা কর্তারা। এক সংবাদমাধ্যমকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি মনে করেন খবরটি সঠিক। যদিও খামেনেই নিহত, এই দাবি অস্বীকার করেছে ইরানের সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম। তাদের পাল্টা দাবি, সর্বোচ্চ নেতা অক্ষত এবং নিরাপদেই আছেন।
বেঞ্জামিনের দাবি, তেহরান-সহ ইরানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানোর পরে খামেনেইয়ের এলাকা ধ্বংস হয়েছে। আরও দাবি, খামেনেইয়ের মৃত্যুর অনেক ‘ইঙ্গিত’ পাওয়া গিয়েছে। বেঞ্জামিনের হুঁশিয়ারি, যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন ইরানের উপরে দু’দেশের (ইজ়রায়েল ও আমেরিকা) হামলা জারি থাকবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি ইজ়রায়েলের এক সংবাদমাধ্যমেরও। ইজ়রায়েলের একাধিক সংবাদমাধ্যমের আরও দাবি, প্রমাণ হিসাবে খামেনইয়ের মৃতদেহ দেখানো হয়েছে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে।
শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপরে হামলা চালায় ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু বাহিনীর দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইজ়রায়েলকে আমেরিকা সাহায্য করেছে বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যৌথ হানার কথা স্বীকার করেছেন নেতানিয়াহুও।
সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইতিহাসের পাতার অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দাবি, যৌথ অভিযানে গোয়েন্দাদের তথ্য ও উন্নত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ব্যবহারের ফলেই সাফল্য এসেছে। যে সমস্ত ইরানের বাসিন্দা দেশের বাইরে আছেন তাঁদের দেশে ফেরার বার্তাও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এখন ইরানের বিভিন্ন বাহিনী যুদ্ধবিরতি চাইছে। ইরানে খামেনেইয়ের বিরোধিতা করে যাঁরা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে সে দেশের বাহিনীকে একত্রে কাজ করার বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, দেশকে উন্নীত করার কাজে মন দেওয়া হোক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপাতত এক সপ্তাহ ইরানে বোমাবর্ষণ জারি থাকবে।
যদিও খামনেইয়ের অন্যতম প্রতিনিধি আব্দুল মাজিদ হাকিমের দাবি, খামেনেই সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি নির্ভীক। আরও দাবি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘মর্যাদা’ ও ‘প্রজ্ঞা’-র সঙ্গে এগিয়ে যাবেন। এই যুদ্ধে ইরানের জয় হবে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম খামেনেইয়ের জনসংযোগ কার্যালয়কে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ইরানকে মানসিক ভাবে দুর্বল করার জন্য দেশের শত্রুরা ভুয়ো খবর প্রচার করছে। এক কথায় ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ‘মানসিক যুদ্ধ’-র অভিযোগ তুলেছে ইরান।
আরও পড়ুন:
-
ইরানে হামলা এখনই বন্ধ করুন! ট্রাম্প-নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে রাশিয়া জানাল, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কাণ্ড! ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে উত্তেজনা
-
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের! ইরানে হামলার পরে দুই রাষ্ট্রনেতার শলাপরামর্শ? দুবাইয়ে এখনও হচ্ছে বিস্ফোরণ
-
আমেরিকার মধ্যে থেকেই উঠল যুদ্ধবিরোধী আওয়াজ! তুললেন জ়োহরান মামদানি, নিউ ইয়র্কবাসী ইরানিদের বার্তা, ‘‘আপনারা সুরক্ষিত’’
প্রসঙ্গত, খামেনেইয়ের দেশের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই ইজ়রায়েল ও ইরানের দ্বন্দ্ব। এর আগে আমেরিকাও একাধিক বার ‘সতর্ক’ করার পরে হামলা চালিয়েছিল ইরানে। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের দেশেও একাধিক বার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন খামেনেই। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে গিয়েও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে পিছু হটেছিল ইরান। যদিও গোপনে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ইরানের সেই সর্বোচ্চ নেতা জীবিত না মৃত তা নিয়েই এখন ধোঁয়াশা। এক দিকে ইজ়রায়েলের দাবি ‘মৃত’, অন্য দিকে, ইরানের দাবি ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’। দ্বন্দ্বে বিশ্ব।