ইরানের বিরুদ্ধে হামলা থামানোর আহ্বান রাশিয়ার। শনিবারই আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের উদ্দেশে তারা জানিয়েছে, অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধ করা হোক। তেহরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ বলেই মনে করছে মস্কো। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে তারা।
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে আমেরিকা ধারাবাহিক ভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল ইরানকে। কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে দু’দেশের। এরই মধ্যে শনিবার ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বাহিনী হামলা চালায় ইরানে। তারা যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালিয়েছে পেন্টাগন— এমনই দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
মার্কিন সেনার ওই হামলার পর পরই গোটা পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেই ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে ইরানও। তেহরানের বাহিনী ইজ়রায়েলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, বাহরিন, ইরাক, সৌদি আরব এবং জর্ডনেও হামলা শুরু করেছে। পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে এই সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাশিয়া-সহ বেশ কিছু দেশ।
আরও পড়ুন:
মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনীকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক স্তরে সমাধানের পথ খোঁজার জন্য বলেছে রাশিয়া। মস্কোর বিদেশ মন্ত্রক এটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করছে। নরওয়ে, বেলজিয়ামের মতো কিছু ইউরোপীয় দেশও এই সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বেলজিয়ামের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ইরানের সরকারের ভুলের মাশুল যেন সে দেশের সাধারণ মানুষকে গুনতে না হয়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বেরিয়ে না আসাও দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে তারা। মুখ খুলেছে নরওয়েও। আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য না করলেও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলেই ব্যাখ্যা করছে তারা।