Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

বরফে মোড়া সান্তার এই গ্রামে রয়েছে বল্গা হরিণের খামার!

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৬ ডিসেম্বর ২০১৮ ১৫:০৯
লাল পোশাক, লাল টুপি, সাদা ধবধবে চুল আর সাদা দাড়ি— ক্রিসমাস ইভে হরিণে টানা স্লেজে বেরিয়ে পড়েন। সঙ্গে ঝোলাভর্তি উপহার। তিনি সান্তা ক্লজ।

বাস্তবে কি সান্তা ক্লজের কোনও অস্তিত্ব আছে? বহু যুগ ধরে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন গবেষকরা। অনেকের দাবি, বাস্তবের সেন্ট নিকোলাস বা সান্তা ক্লজ ছিলেন খুব উদার মনের। কারও দাবি, তুরস্কে ছিল তাঁর বাড়ি।
Advertisement
অনেক গবেষক আবার বলছেন, ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমিতে রয়েছে সান্তা ক্লজের ‘ম্যাজিক্যাল’ গ্রাম। এখানেই রয়েছে সান্তা ক্লজের অফিস।

সান্তা ক্লজের এই গ্রাম কিন্তু একেবারে বরফের চাদরে মোড়া। ছবির মতো এই গ্রামটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পঞ্চাশের দশকে আর্কটিক সার্কেলের উত্তরে একটি কেবিনও তৈরি হয় ফার্স্ট লেডি এলিয়ানোর রুজভেল্টের আমলে।
Advertisement
২০১০ সালে রোভানিয়েমিকেই সান্তার ‘অফিসিয়াল হোমটাউন’ বলে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের আনাগোনা এখানে।

রোভানিয়েমিকে অফিশিয়াল তকমা দিলেও সান্তা বা সেন্ট নিকোলাসের আসল গ্রামের অস্তিত্ব কিন্তু এখনও অজানাই। এ নিয়ে রয়েছে বেশ কিছু প্রচলিত গল্পও।

যে সব বাচ্চারা ট্রেক করে ওই গ্রামে পৌঁছে সান্তার সঙ্গে দেখা করে, তাদের শংসাপত্রও দেওয়া হয়। সান্তার ‘সার্টিফিকেট অব নাইসনেস’ পেতে অতিরিক্ত ৮ ডলার দিতে হয়।

তবে যারা পৌঁছতে পারে না সান্তার গ্রামে, তারা চাইলেই সান্তাকে চিঠি দিতে পারে। এল্ভস নামের একজন সহকারী রয়েছেন সান্তার, যিনি নির্দিষ্ট দেশ ধরে ধরে চিঠির আলাদা তালিকা তৈরি করেন।

এখানকার যে ডাকঘর, তাতে বিশেষ আর্কটিক সার্কেলের পোস্ট মার্ক রয়েছে। সান্তা আর তাঁর প্রিয় বল্গা হরিণগুলিও রয়েছে এতে।

প্রতি বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে অসংখ্য দর্শনার্থীর সামনে আসেন সান্তা। দেন উপহার। সান্তার সাজে বহুভাষী একজন অভিনেতা এই অফিসে আসেন প্রতি বছরের মতোই।

চলতি বছরেই বিশ্বের ১৯৮টি দেশ থেকে চিঠি এসেছে এই অফিসে। অনেকেই সান্তার ছবি এঁকে পাঠান। কিছু চিঠি খুলে দেখা হয় সঙ্গে সঙ্গে। কিছু রেখে দেওয়া হয় আলাদা করে পরে পড়ার জন্য। কিছু চিঠির উত্তর দেওয়া হয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এখানে রয়েছে স্নো ম্যান ওয়ার্ল্ড আইস বার কাম রেস্তরাঁ। যে গ্লাসে পানীয় পরিবেশন করা হয়, সেটিও বরফের তৈরি।

এখানে পর্যটকদের থাকার জন্য রয়েছে ইগলু। তার দেওয়ালে সান্তা খোদাই করা। ইগুলুগুলি দেখতে স্নো বানির মতো।

নৈশভোজের সঙ্গে গানবাজনার ব্যবস্থা রয়েছে এখানকার একমাত্র কোটাহোভি রেস্তরাঁয়। সেখানেও দেখতে পাবেন সান্তাকে।

বল্গা হরিণের খামার দেখতে এখানে আসেন লক্ষ লক্ষ পর্যটক। তবে বল্গা হরিণে টানা স্লেজ চালানোর অধিকার কিন্তু শুধুমাত্র লাল সাদা জামা পরা মানুষটির।