Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

Hornet Balls: সোনার খনি থেকে উদ্ধার হয় দানবীয় দুই ‘ভীমরুলের চাক’! কী কাজে ব্যবহার, কাটেনি রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৩ অক্টোবর ২০২১ ১৩:৪০
ইতিহাসে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার কোনও অর্থ খুঁজে পাওয়া যায় না। সারা জীবন সে সব বিস্ময় হয়েই রয়ে যায়। তেমনই একটি হল ‘হর্নেট বলস’। সোনার খনি থেকে এক সময় উদ্ধার হয়েছিল বিশালাকার এই বল দু’টি। খনিতে কেন এই বল দু’টি ছিল, এর কাজ কী ছিল— এ সব প্রশ্নের কোনও উত্তর এখনও জানা যায়নি। সারা বিশ্বের কাছে এই বল দু’টি আজও বিস্ময়।

খনি অঞ্চল হিসাবে জনপ্রিয় আমেরিকার ভার্জিনিয়া। এলাকা জুড়েই একাধিক খনি রয়েছে। ১৯ শতক জুড়ে ভার্জিনিয়ায় একের পর এক সোনার খনির সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সময় সে রকমই একটি খনি থেকে ওই দু’টি বল উদ্ধার হয়েছিল।
Advertisement
১৯৯৮ সাল থেকে বল দু’টি রাখা রয়েছে ভার্জিনিয়ার মনরো পার্কের গোল্ড মাইনিং ক্যাম্প জাদুঘরে। ভার্জিনিয়ার খনি অঞ্চলের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে ওই জাদুঘরে। সেখানেই পার্কের মধ্যে রাখা রয়েছে বলগুলি।

দেখতে বড় আকারের কলসির মতো। ভিতরটি ফাঁকা। আর মুখটি লোহার জাল দিয়ে আটকানো। বলটি তৈরিও হয়েছে লোহার কাঠামোর উপর।
Advertisement
লোহার কাঠামোর উপর সিমেন্টের আস্তরণ দিয়ে বানানো বল দু’টি সাত ফুট উঁচু। এর পরিধি প্রায় ২০ ফুট। এক একটি বলের ওজন ছয় হাজার ৩৫০ কিলোগ্রাম। ফলে শুধু আকারেই নয়, ওজনেও বল দু’টি আক্ষরিক অর্থেই দানবীয়।

খনিতে এই বল দু’টির খোঁজ মেলার পর থেকেই বলের কাজ নিয়ে নানা মত প্রকাশ্যে এসেছে। অনেকের মত, খনির আকরিক গুঁড়ো করে সোনা আলাদা করতে কাজে লাগানো হত এগুলি। একটি দণ্ডের দু’পাশে বল দু’টি আটকানো হলে এটি যন্ত্রের মতো কাজ করত। ঘোড়া বা কোনও শক্তিশালী প্রাণীর সাহায্যে দণ্ড ঘুরিয়ে বল দু’টিকে পেষণ যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা হত বলে মনে করা হয়।

এর ভিন্ন মতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, খনি থেকে উদ্ধার হওয়া পাথর-আকরিক বলের ভিতরে রেখে তার পর সেটিকে খুব জোরে ঘোরানো হত। এতে প্রয়োজনীয় বস্তু পাথর থেকে আলাদা হয়ে পড়ে। তা সহজেই সংগ্রহ করে নেওয়া যায়।

তবে বলগুলি নিয়ে রহস্য এখনও কাটেনি। বলগুলির নাম রাখা হয়েছিল ‘হর্নেট’। এমন নামকরণ নিয়েও ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকেরই মত, দেখতে অনেকটা ভীমরুলের চাকের মতো হওয়াতেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘হর্নেট’। ইংরাজিতে ভীমরুলকে ‘হর্নেট’ বলা হয়।

কারও মতে, এর ভিতরে পাথর দিয়ে ঘোরানোর সময় খুব জোর শব্দ তৈরি হয়। ভাল ভাবে শুনলে মনে হতে পারে যেন এক ঝাঁক ভীমরুল উড়ে বেড়াচ্ছে। সে কারণেই এমন নামকরণ বলে মনে করেন অনেকে।

এই বলগুলি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি আজও। মনরো পার্ক জাদুঘরে সেই বিস্ময় জাগিয়েই পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কারণ হয়ে রয়ে গিয়েছে ‘হর্নেট বলস’।