E-Paper

খুন শিশু, প্রশ্নে অভিবাসন নীতি

আদতে হন্ডুরাসের বাসিন্দা ওয়েন্ডি এর্নান্দেজ় রেয়েসে বেআইনি অভিবাসী হয়ে আমেরিকায় কিছু দিন বসবাস করেছেন। আইসি-ই তাঁকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৯:২৫

— প্রতীকী চিত্র।

শিশুহত্যার অভিযোগ উঠল আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-র বিরুদ্ধে। যদিও আইসিই-র দাবি, শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ী তার মা-ই।

আদতে হন্ডুরাসের বাসিন্দা ওয়েন্ডি এর্নান্দেজ় রেয়েসে বেআইনি অভিবাসী হয়ে আমেরিকায় কিছু দিন বসবাস করেছেন। আইসি-ই তাঁকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠায়। কিন্তু ওয়েন্ডির অভিযোগ, তাঁর দু’বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিতে না দিয়েই তাঁকে দেশছাড়া হতে বাধ্য করে অভিবাসী দফতর। কয়েক মাস পরেই নির্মম ভাবে খুন হয় সেই শিশু। যদিও আইসিই-র পাল্টা দাবি, সন্তানকে জেনেশুনে তার কাকার কাছে ফেলে রেখে গিয়েছিলেন ওই মহিলাই। এবং সেই কাকা এক দাগি অপরাধী ও নিজেও বেআইনি অভিবাসী হিসেবে আমেরিকায় বসবাস করছে।

ওয়েন্ডি-র দাবি, তাঁর ছেলে অরলিন হোসুয়ে এর্নান্দেজ় রেয়েসকে ছাড়া তাঁকে যেন হন্ডুরাসে ফেরত না পাঠানো হয়, সে জন্য তিনি অভিবাসন দফতরের আধিকারিকদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন। কিন্তু জানুয়ারি মাসে তাঁকে একাই হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। দু’বছরের অরলিন ফ্লরিডার এসক্যাম্বিয়া কাউন্টিতে তার কাকার কাছে থাকছিল। মার্চ মাসে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আইসিই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই শিশুটির পাঁজরের একাধিক হাড় ভাঙা ছিল, অগ্ন্যাশয় ছিঁড়ে গিয়েছিল, শরীরে পোড়া দাগ ছিল। যৌন নির্যাতনেরও ইঙ্গিত মিলেছে। খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তার কাকাকে।

শিশুটির মৃত্যুর পরে আইসিই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, ওয়েন্ডি তাঁর সন্তানকে ‘এক হিংস্র খুনির কাছে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলেন, এবং সেই লোকটাই শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ কেড়ে নেয়।’ আইসিই-র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই ছোট্ট শিশুটি ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করেছে এবং মারা গিয়েছে, কারণ তার মা তাকে মালডোনাডো-এরাজ়োর জিম্মায় রেখে গিয়েছিলেন। মালডোনাডো-এরাজ়ো নিজেও অবৈধ অভিবাসী, যার এই দেশে থাকারই কথা ছিল না।’

আইসিই-র ডিরেক্টর টড এম লায়ন্সের কথায়, “এ দেশে যে সব বেআইনি অভিবাসীরা আছেন, সেই সব বাবা-মাকে সন্তানদের নিয়ে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করার পরামর্শ দিই। তবে কেউ তা না করলেও, আইসিই তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়েই ফেরত যাওয়ার সুযোগ দেয়। কিন্তু সেই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রেয়েস তাঁর ছেলেকে এক খুনির কাছে রেখে গিয়েছিলেন।”

এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়েন্ডি। আমেরিকার একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, দেশছাড়া করার আগে ছেলের সঙ্গে তাঁকে একত্র করার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, “আমি কী করে আমার সন্তানকে ফেলে যেতে পারি? ও-ই তো ছিল আমার জীবনের সব কিছু। আমি সব সময় ছেলেকে নিয়েই থাকতাম। আমি এমন মা নই, যে নিজের সন্তানকে খুনির হাতে ছেড়ে দেবে। আমি ওদের বারবার বলেছিলাম, আমার ছেলেকে ফিরে পেতে আমাকে সাহায্য করুন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

USA

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy