Advertisement
E-Paper

বাংলাদেশে চিনের প্রভাব রুখতে আমেরিকা সামরিক সহায়তা দিতে চায়, নয়াদিল্লি এবং ঢাকার সুসম্পর্কও চায় ট্রাম্প প্রশাসন

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার আগে, মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সেখানেই তিনি বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাবের কথা জানান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০৮
(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশে চিনের প্রভাব রুখতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সেই লক্ষ্যে ঢাকাকে সমরাস্ত্র সরবরাহ করতেও রাজি পেন্টাগন। অন্য দিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ‘স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে’ ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্কও চায় হোয়াইট হাউস। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার ঠিক দু’দিন আগে, মঙ্গলবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সেখানেই তিনি বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মনোভাবের কথা জানান।

সম্প্রতি একটি ড্রোন কারখানা তৈরি করার জন্য চিনের সঙ্গে সামরিক সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ওই কারখানাটি তৈরি হতে চলেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা। তা ছাড়া চিন এবং‌ পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চিনের প্রভাব যথাসম্ভব হ্রাস করতে নিজেদের বিকল্প হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে আমেরিকা।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের মার্কিন দূত রয়টার্সকে বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন। চিনের সঙ্গে এই ধরনের বোঝাপ়ড়ার ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি বা বিপদ রয়েছে, সেগুলি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করতে আমরা দায়বদ্ধ।” এই সূত্রেই আমেরিকার রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করতে রাজি পেন্টাগন। তবে এই বিষয়ে চিন বা বাংলাদেশ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ খোলেনি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশের সামরিক রসদ পূরণে আমেরিকা একগুচ্ছ প্রস্তাব দিচ্ছে।” চিনের সমরাস্ত্রের বিকল্প হিসাবে আমেরিকা নিজের এবং মিত্ররাষ্ট্রগুলিকে দেওয়া সমরাস্ত্রও বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে রাজি বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন গোটা অঞ্চলে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চায়।”

মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ-ও জানিয়েছেন যে, মার্কিন শিল্পপতিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান। তবে আমেরিকা চায়, নির্বাচনের পর নতুন সরকারই এই বিষয়ে আগে আগ্রহ দেখাক। ক্রিস্টেনসেনের কথায়, “বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আমাদের যে কথাবার্তা এগিয়েছিল, তার ভিত্তিতে নতুন সরকারের আমলেও আমরা কাজ করতে চাইছি।” তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে মূলত বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক বোঝাপড়া আরও মজবুত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নয়াদিল্লি-ঢাকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সুর কেটেছে। সেই সুযোগ নিয়েছে চিন। পুরনো বিবাদ ভুলে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ করেছে ঢাকা। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিনের প্রভাব কমাতে মরিয়া আমেরিকা এই বিষয়টি নিয়েই উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর যে দল বা জোটই সরকার গঠন ক়রুক, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

Bangladesh US China
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy