প্রবল গরমে পুড়ছে আমেরিকা থেকে ইউরোপ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। কোথাও প্রায় ৫০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই করছে। এমন পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধুমাত্র আমেরিকাতেই এক কোটি মানুষ গরমের কবলে।
আমেরিকার ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। ক্যালিফর্নিয়া এবং টেক্সাসে তাপপ্রবাহ চলছে। তাপমাত্রা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। শুধু তাই-ই নয়, ক্যালিফর্নিয়ার ডেথ ভ্যালিতে তাপমাত্রা ৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ক্যালিফর্নিয়ার কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিতেও পৌঁছে গিয়েছে।
দক্ষিণ ক্যালিফর্নিয়ায় আবার গরমের পাশাপাশি দাবানলেও পুড়ছে। প্রায় ৩ হাজার একর জমি দাবানলের গ্রাসে চলে গিয়েছে। অন্য দিকে, কানাডাও দাবানলের সঙ্গে যুঝছে। এক কোটি হেক্টর এলাকা দাবানলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমেরিকার যে সব অঞ্চল তাপপ্রবাহে পুড়ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত অ্যারিজ়োনা। রাজধানী ফিনিক্সে টানা ১৬ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ঘোরাফেরা করছে। শনিবার তা ৪৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্য দিকে, ইউরোপের গরমের ছবিটাও এক। গরমে পুড়ছে ইটালি। রোম, বলগনা এবং ফ্লোরেন্স-সহ ১৬টি শহরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী দিন চরম তাপপ্রবাহের জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ইটালির আবহাওয়া দপতর। এ বছরে তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার রোমে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে। মঙ্গলবার তা বেড়ে হতে পারে ৪৩ ডিগ্রি। যা ২০০৭ সালের অগস্ট মাসের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে। ওই বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সিসিলি এবং সারডিনিয়ায় তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অন্য দিকে, গরমের কারণের গ্রিসের আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল আথেন্স অ্যাক্রোপলিস রবিবার বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফ্রান্সের গরম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, খরারের সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। স্পেনের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।