Advertisement
E-Paper

ছ’হাজারের বেশি মার্কিন পণ্যে কোনও শুল্কই নিতে পারবে না বাংলাদেশ! ভারতকে টেক্কা দিতে কী কী ছাড়তে হল ইউনূসকে

বাংলাদেশের পণ্যে আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ। তা কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। সোমবার বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ওয়াশিংটন-ঢাকা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১০
(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বাংলাদেশে ভোটের তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। পারস্পরিক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে ১৯ শতাংশে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে মূলত বস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে ভারতকে কড়া প্রতিযোগিতার মুখে ফেলতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু এই এক শতাংশ শুল্ক কমানোর জন্য চড়া ‘মূল্য’ দিতে হয়েছে ঢাকাকেও। আমেরিকার অনেক দাবি মেনে নিতে হয়েছে মুখ বুজে।

আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, ছ’হাজারের বেশি মার্কিন পণ্যে শুল্ক শূন্য করে দিতে হবে ঢাকাকে। অর্থাৎ, ওই পণ্যগুলির উপর থেকে কোনও রকম আমদানিশুল্ক নেওয়া যাবে না। এতে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ে বড়সড় ঘাটতি হতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত সাড়ে চার হাজার পণ্যে শুল্ক এখনই শূন্য করে দেবে বাংলাদেশ। চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই ওই পণ্যগুলিতে শুল্ক নেওয়া যাবে না। বাকি ২২১০ ধরনের পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে ধাপে ধাপে। বাংলাদেশ তাতে রাজি হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ১৫৩৮ ধরনের মার্কিন পণ্যে চুক্তি কার্যকরের দিন থেকে আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমাতে হবে বাংলাদেশকে। বাকি অর্ধেক শুল্ক চার বছরে সমান হারে কমিয়ে পঞ্চম বছর থেকে শূন্য করতে হবে। ৬৭২ ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রথমে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে পরবর্তী ন’বছরে বাকি অর্ধেক শুল্ক ধাপে ধাপে শূন্য করতে হবে। এ ছাড়া, যে ৪২২ ধরনের পণ্যে শুল্ক শূন্য রয়েছে, তা শূন্যই রাখবে ঢাকা। আমেরিকার পণ্যে সমস্ত অশুল্ক বাধা দূর করতে হবে। অন্য কোনও দেশের সঙ্গে মার্কিন পণ্য যাতে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন না হয়, তা-ও বাংলাদেশের সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

এ সব কিছুর পরিবর্তে বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কের পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করতে রাজি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বাংলাদেশের ১৬৩৮ ধরনের পণ্যে এই অতিরিক্ত শুল্ক নেওয়া হবে না। এগুলির ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মার্কিন আমদানি শুল্ক (১৬ থেকে ১৭ শতাংশ) কার্যকর হবে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, শুল্ক শূন্য করলেও বাংলাদেশ মার্কিন পণ্যের উপর ভ্যাট, অগ্রিম কর এবং অগ্রিম আয়কর নিতে পারবে আগের মতোই। প্রথম আলো জানিয়েছে, আমেরিকার পণ্য থেকে বাংলাদেশের রাজস্ব বাবদ যে আয় হয়, তার ৩৮ শতাংশ আসে শুল্ক থেকে। বাকি ৬২ শতাংশ আসে অন্যান্য কর থেকে। সেই করে ছাড় দেওয়া হয়নি।। তবে বাণিজ্যে আমেরিকার দাবিগুলি মেনে নেওয়ায় রাজস্বের ৩৮ শতাংশ ছেড়ে দিতে হচ্ছে ঢাকাকে। পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবর্ষে আমেরিকা থেকে ২৫০ কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা) পণ্য কিনেছে বাংলাদেশ। আমদানি শুল্ক বাবদ তা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৬২ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রা)। নতুন চুক্তির ফলে রাজস্বে চাপ পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

US Bangladesh Ties Muhammad Yunus Donald Trump dhaka Washington
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy