মাটির দেওয়াল, টালির চাল। দরজা-জানলা ভাঙা। বৃষ্টি হলেই চাল বেয়ে জল পরে। ভিজে নষ্ট হয় চাল-আনাজ। এ হেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হাল সরেজমিনে দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করা গেল, ভিতরে পড়ে সাপের খোলস!
পান্ডুয়া ব্লকের ইটাচুনা-খন্যান পঞ্চায়েতের বড় সরসার বলদারপাড়ে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়ে এবং অন্তঃসত্ত্বা নিয়ে মোট ৪২ জনের খাবার প্রতি দিন রান্না হয়। গ্রামের মানুষের অভিযোগ, কেন্দ্রটির হাল নিয়ে প্রশাসন চোখ বুজে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমে আরও বেশি বিগড়েছে। ঝড়বৃষ্টিতে ওই কাঁচাবাড়ি ভেঙে বড় বিপদ হতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন। ফলে শিশু ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাপখোপের আনাগোনা ভয় বাড়িয়েছে। কয়েক মাস আগে এখান থেকে খাদ্যসামগ্রী চুরি হয়ে যায় বলে কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মী সবিতা সাহা জানান।
কেন্দ্রটি অবিলম্বে সংস্কারের দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। তাঁরা জানান, কাঁচাবাড়িতেই বছরের পর বছর কাজ চলছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, কার্যত জীর্ণ অবস্থা। মেঝেতে চিড় ধরেছে। চতুর্দিকে ধুলোময়লা। জানলার পাশে মেঝেতে সাপের খোলস। সবিতা জানান, ওই খোলস দেখে সকলেই ভয় পেয়ে যায়। তাঁর কথায়, ‘‘যা অবস্থা, তাতে অবিলম্বে সংস্কার করা দরকার। কোনও রকমে কেন্দ্র চলছে।’’ উমাপদ সরেন, শঙ্খ কোলেদের মতো গ্রামবাসীদের অভিযোগ, পাশের গ্রামে দু’টি পাকা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র হয়েছে। কিন্তু এটি চলছে দৈন্যদশায়। আগে চোর ঢুকেছে। ভাঙা দরজা-জানলার ফাঁকফোকড় দিয়ে সাপ ঢুকবে না কেন! কাউকে ছোবল দিলে, তখন সংস্কার হবে!
গ্রামের লোকের অভিযোগ, বিডিও অফিস থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য— সকলকেই কেন্দ্রটি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু সংস্কার হয়নি। ঝড়়বৃষ্টিতে বিপদের আশঙ্কা থাকে। পান্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য মহুয়া হুঁই সরকার বলেন, ‘‘আমার এলাকায় দু’টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার করা হয়েছে। বলদারপাড়ে কেন্দ্রটি সংস্কারের জন্য ব্লক অফিসে জানিয়েছি বেশ কয়েক মাস আগে। আশা করছি, এটিও সংস্কার করা হবে।’’ আগেও এখানে সাপ ঢুকেছিল বলে জানান তিনি। বিডিও স্বাতী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘জায়গা নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)