অভাবিত ফলাফল। ২৯৯টির মধ্যে একটি আসনে ভোট গোনা স্থগিত হয়েছে। বাকি ২৯৮টি আসনের বেসরকারি ফলে এরশাদের জাতীয় পার্টি ও কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে শেখ হাসিনার মহাজোট পেয়েছে ২৮৮টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামি লিগ জিতেছে ২৫৫ এবং জাতীয় পার্টি ২২টিতে। বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭টি আসনের মধ্যে খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ৫টি এবং কামাল হোসেনের গণফোরাম ২টি আসন জিতেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাসীন দলের এই বিরাট জয়কে হাসিনা ‘উন্নয়ন ও দেশের অগ্রগতির পক্ষে এবং দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের রায়’ বলে ঘোষণা করলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির অভিযোগ করেছেন, ‘‘সাজানো নির্বাচনের ফল ভোটের আগেই ঠিক করে রাখা হয়েছিল।’’ নিজের এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে পরাজিত হলেও খালেদা জিয়ার আসন বগুড়ায় বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব। বিএনপির জয়ী প্রার্থীরা সাংসদ হিসেবে শপথ না-নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন বলে 

ইঙ্গিত মিলেছে। তবে শরিক গণফোরামের দুই জয়ী প্রার্থী শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ দিন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকের পরে বিএনপি ও গণফোরামের কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে বচসা ও হাতাহাতি বাধে। হাসিনা বলেছেন, ‘‘বিএনপির কর্মীরাও নেতাদের ওপর ভরসা রাখতে পারেননি। সে জন্যই তাঁরা ভোট পাননি। এখন মিথ্যা  দোষারোপ করছেন।’’

আরও পড়ুন: বিভ্রান্তি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বিএনপি জোট, এই মহাবিপর্যয় তারই ফল

সমস্ত বুথের ফল খতিয়ে দেখে গেজেট নোটিফিকেশনে নির্বাচনের সরকারি ফল প্রকাশ হতে আরও দু’-এক দিন লাগবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা ভোটে কারচুপির সব অভিযোগ উড়িয়ে দাবি করেছেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মানুষ ভোট দিয়েছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষকরাও সারা দিন ভোটকেন্দ্রগুলিতে ঘুরে বেড়িয়ে সন্ধ্যায় চমৎকার ভোটের জন্য কমিশনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। হুদা জানান, ভোট পড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গতকালই ভো‌টের ফল প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ফের ভোটের দাবি জানিয়েছিল। সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুদা জানিয়ে দেন, আবার ভোটের কোনও সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: সবার আগে হাসিনাকে ফোন মোদীর